আজ বুধবার,১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শ্বেতী রোগের কারণ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জেনে নিন।সবার জানা জরুরী !তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

শ্বেতী রোগ লক্ষণ ও প্রতিকার
শ্বেতী রোগ
শ্বেতী রোগ মানুষের ত্বকের একটি সাধারণ সমস্যা। শ্বেতী রোগ যে কারোরই হতে পারে। সাধারণত শরীরের যেসব অঙ্গ আবরণমুক্ত থাকে যেমন : হাত, পা, বাহু, মুখ এবং ঠোট সেসব অঙ্গে শ্বেতী দেখা যায়। শ্বেতী রোগ মূলত ১০-৩০ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম দেখা যায়।

শ্বেতী রোগ কি?
শ্বেতী রোগে ত্বক মেলানিন (যা মানুষের ত্বক, চোখ ও চুলের রঙ নির্ধারণ করে) হারায়। যখন ত্বকের কোষগুলো ক্ষয় হয় বা মারা যায় তখন শ্বেতী রোগ হয়। কারণ ত্বকের কোসগুলোই মেলানিন তৈরি করে। শ্বেতীর ফলে ত্বকের উপর সাদা দাগের আকার দেখা যায়। শ্বেতী রোগ তিনভাবে হতে পারে:
শরীরের অল্প কিছু অংশে
যে কোন একদিকে (বাম অথবা ডান দিকে)
শরীরের অধিকাংশ জায়গায়

শ্বেতী রোগ হয়েছে কি করে বুঝবেন
শ্বেতী রোগের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো সাধারণত: হলো :
ত্বকের উপর সাদা দাগ পড়লে
অল্প বয়সে মাথার চুল, চোখের পাপড়ি, ভ্রু, দাড়ি সাদা বা ধূসর হলে
মুখের ভিতরের কলাগুলো বর্ণহীন হলে (Mucous membranes)
চোখের ভিতরের অংশ রংহীণ হলে অথবা রংয়ের পরিবর্তন হলে

কখন ডাক্তার দেখাবেন?
ত্বক, চুল এবং চোখ ফ্যাকাসে হওয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

কোথায় চিকিৎসা করাবেন?
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
জেলা সদর হাসপাতাল
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বেসরকারী হাসপাতাল

কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে ?
রোগের ইতিহাস
বংশের রোগের ইতিহাস
ত্বকের বায়োপসি (Skin Biopsy)
রক্তের পরীক্ষা
চোখের পরীক্ষা

কি ধরণের চিকিৎসা আছে?
শ্বেতী রোগের চিকিৎসা ৬-১৮ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ডাক্তার নিচের ব্যবস্থাগুলো গ্রহণের জন্য বলতে পারেন :
ঔষধ ব্যবহার করা (Topical)
মুখে ঔষধ খাওয়া
শল্য চিকিৎসা
বাড়তি সতর্কতা
নিজের প্রতি যত্ন নিতে হবে
সূর্যের আলো প্রতিরোধ করে এমন মলম (ক্রিম) ব্যবহার করতে হবে
যাদের গায়ের রঙ ফর্সা তারা গা তামাটে রঙ করা (Tanning) থেকে বিরত থাকতে হবে

সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন. ১. শ্বেতী রোগ কেন হয় ?
উত্তর. শ্বেতী রোগ হবার কারণগুলো হলো :
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি (Immune System Disorder) থেকে
বংশগত কারণে
রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া অথবা মানসিক চাপ থেকে
প্রশ্ন.২. শ্বেতী রোগ কি ছোঁয়াচে?
উত্তর. না,শ্বেতী কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়।
প্রশ্ন. ৩. শ্বেতীর কি ধরণের শল্য চিকিৎসা আছে?
উত্তর.অটোলোগাস স্কিন গ্রাফটস (Autologus Skin Grafts)
ব্লিস্টার গ্রাফটিং (Blister Grafting)
ট্যাটু (Tattoing)

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, পোস্টটি পড়ে অবশ্যই উপকৃত হয়েছেন। আবারও আসবো নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য, ‍সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। করোনাকে ভয় নয় – কেবল সচেতন থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অন্যদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। (অনার্স – অ্যাকাউন্টিং, দিনাজপুর সরকারি কলেজ এবং সিইও – দিনাজপুর স্কুল নামক ইউটিউব চ্যানেল)।

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিন বার্তাঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ জাহাঙ্গীর বিন সফিকুল। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

ইমেইলে পোস্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন:

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (সকাল ৬:৪৩)
  • ২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২০শে রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
  • ১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
জাতীয় হেল্প লাইন