আজ সোমবার,৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

www.sunrise71.com

শিশুদের রোগ ও হোমিওপ্যাথিতে এর চিকিৎসা – পর্বঃ ০১

শিশুর রোগ ও চিকিৎসা


শিশুর কোনো রোগ হলে রোগটা কি তা আগে জানা দরকার। শিশুর মা ও যিনি চিকিৎসা করবেন উভয়কেই এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে মূল রোগটাকে ধরবার চেষ্টা করতে হবে।

শিশু কথা বলতে পারে না, আকার-ঈঙ্গিতে বোঝাতেও পারে না কিছু – এ অবস্থায় নিজেদেরই লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় ও ওষুধ নির্বাচন করতে হবে।

আবার এমন রোগও আছে যার কোনো লক্ষণ বাইরে থেকে বোঝা যায় না। যেমন- পেট কামড়ানি, পেট ব্যথা প্রভৃতি। এক্ষেত্রে শিশু কেবল কাঁদে।



মা ও চিকিৎসককে কান্নার কারণ কি তা জানতে হবে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক এ রকম অবস্থায় শিশুর মায়ের ঐ সময়কার শারিরীক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন।

মা ও শিশু উভয়কে পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসক একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন যে, রোগটা এই হতে পারে বা হওয়া সম্ভব। এবার তিনি ওষুধ নির্বাচন করবেন।

এ কথা মনে রাখা দরকার যে, শিশু রোগের চিকিৎসা করা কাজটা মোটেই সহজ নয়। খুব সাবধানতা অবলম্বনপূর্বক এ কাজে হাত দেওয়া উচিত।

ওষুধের মাত্রার বিষয়েও হুঁশিয়ার থাকতে হয় চিকিৎসককে। মাত্রা বেশি হলে শিশুর পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতির আশংকা থাকে।


স্তন না ধরাঃ অনেক সময় শিশু স্তন ধরতে চায় না কিংবা স্তন ধরেও টানতে পারে না। সাধারনত দূর্বল শিশু হলেই এরকম হয়ে থাকে। এ অবস্থায় ঝিনুকে করে দুধ টেনে শিশুকে খাওয়ানো উচিত। শিশু যদি এতেও ‍দুধ না খায় তখন ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে।



এ অবস্থায় ওষুধ- চায়না ৬।

 

শিশুর নাড়ী না শুকানোঃ সাধারনত ৪/৫ দিন লাগে শিশুর নাড়ী শুকনো হতে। তা না শুকালে বুঝতে হবে কিছু একটা গোলমাল ঘটেছে।

যদি পুঁজ হয় বা রক্ত পড়ে তাহলে খাওয়াতে হবে- সাইলিশিয়া ৬। সেই সঙ্গে বাইরে প্রলেপ দিতে হবে- ক্যালেন্ডুলা তেল।

নাভিদেশ ফুলে উঠলে ও লাল হলে- বেলেডোনা ৬।

নাড়ী কাটার পর বাঁধবার দোষে যদি রক্ত পড়ে তাহলে ওষুধ লাগানো দরকার। লাগাবার ওষুধ- হ্যামামেলিস Q।

ক্ষতে যদি দুর্গন্ধ হয় তাহলে খাওয়াতে হবে- আর্সেনিক ৬।

 

গোঁড় হওয়াঃ শিশুর নাভি শুকিয়ে যাওয়ার পরে সেই জায়গাটা উঁচু বা ঢিবির মতো হয়ে থাকে। একেই বলে গোঁড়। ব্যান্ডেজ বা ন্যাকড়া দিয়ে গোঁড়টাকে পেটের সঙ্গে বেঁধে রাখা উচিত। সেই সঙ্গে ওষুধও খাওয়াতে হবে।

এ অবস্থার ওষুধ- নাক্সভম ৬।

 

শিশুর জড়ুলঃ শরীরের যেকোনো স্থানে জড়ুল হতে পারে। জড়ুল যেখানেই হোক, ওষুধ খাওয়ালে তা সেরে যায়। এর ওষুধ- থুজা ৩০। জড়ুলের ওপর প্রলেপ দিলে আরও ভালো হয়। প্রলেপের ওষুধ- থুজা Q।

 

সর্দি-কাশিঃ শিশুর সর্দি-কাশি হয় সাধারনত ঠান্ডা লেগে। তবে কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্যও সর্দি-কাশি হতে পারে। গলায় ঘড়-ঘড় শব্দ, নাকে সর্দি ঝরে, শ্লেষ্মা বের হয়, নাক বন্ধ হয়ে যায় ফলে স্তন টানতে পারে না, কাশি হয় প্রভৃতি লক্ষণ। অনেক সময় জ্বরও হয়ে থাকে।



ঠান্ডা লেগে জ্বর ও সর্দি-কাশিতে খাওয়ানো দরকার- অ্যাকোন ৩x।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও শুকনো কাশিতে- ব্রায়োনিয়া ৩।

বেশি পরিমাণে শ্লেষ্মা বমি হলে- ইপিকাক ৬।

গলা ঘড়-ঘড় ও শ্লেষ্মা বমিতে- অ্যান্টিম টার্ট ৬।

শিশুর নাক বন্ধ হয়ে যায় এবং তার ফলে স্তন টানতে পারে না সেক্ষেত্রে খাওয়াতে হবে- নাক্সভম ৬।

শিশুর গায়ে সরাসরি বাইরের হাওয়া যাতে না লাগে সেজন্য সারা শরীরে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা দরকার। পোয়াতীকেও ঠান্ডা থেকে সাবধানে থাকতে হবে। মা ও শিশু উভয়েরই ঠান্ডা পানিতে গোসল করা চলবে না।




ঘুংড়ি কাশিঃ ঘুংড়ি-কাশি হয় দু’ধরণের। সেগুলো হলো- কৃত্রিম ও প্রকৃত। কৃত্রিম কাশিতে গলা সুড়-সুড়, গলা ঘড়-ঘড়, সাঁই-সাঁই শব্দ প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়।

প্রকৃত কাশিতে স্বর ভাঙা, গলায় বেদনা, শুকনো কষ্টকর কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়।

এ রোগের চিকিৎসা করার আগে কৃত্রিম নাকি প্রকৃত ঘুংড়ি কাশি তা লক্ষণ দেখে জেনে নিতে হবে, তারপর ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে।

অবসন্নতার সঙ্গে গলা ঘড়-ঘড় করলে- অ্যান্টিম টার্ট ৬।

কাশতে কাশতে যদি বমি হয় তাহলে দিতে হবে- ইপিকাক ৩x।

গা গরম, শুকনো ভাব, দম আটকানো কাশি, স্বর ভাঙা, অস্থির ভাব, তৃষ্ণা প্রভৃতি লক্ষণে- অ্যাকোনাইট ৩x (প্রথমে), স্পঞ্জিয়া ৩x (পরে)। ১০/১৫ মিনিট অন্তর ওষুধ খাওয়ানো দরকার।

আক্ষেপসহ কাশিতে- স্যাম্বিউকাস ২x।

জ্বর ছাড়ার পর কাশি সরল অবস্থায় এলে- হিপার সাল্ফ ৬।

শিশুর ঘুংড়ি কাশি হলে মায়ের স্বাস্থ্যের প্রতিও নজর রাখা উচিত। রোগিনীর খাদ্য হবে দুধ, এরারুট, বার্লি প্রভৃতি।

 

হিক্কাঃ সাধারনত অজীর্ণতার জন্য শিশুদের হিক্কা হয়। তবে ঠান্ডা লেগেও এরকম হতে পারে।



যে-কোনো কারণেই হিক্কা হোক, শিশুকে খাওয়াতে হবে- নাক্সভম ৩০ বা জিনসেং ৬x।

 

শ্বাসকষ্টঃ অনেক সময় শিশুর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। শিশু অনেক কষ্ট পায়।

এ অবস্থার ওষুধ- স্যাম্বুকাস ৩x, স্পঞ্জিয়া ৩। যে-কোনো একটি ওষুধ সেব্য।

 

দুধ তোলাঃ শিশুরা দুধ তোলে। সাধারনতঃ বেশি পরিমাণে দুধ খাওয়ার জন্যই এরকম হয়। অজীর্ণতা দোষ, মায়ের খাওয়ার দোষ, শ্লেষ্মা প্রভৃতি কারণেও শিশুরা দুধ তোলে।

অনেক সময় জমাট দই এর মতো দুধ তোলে। এ রকম অবস্থায় বমিও হতে পারে। শিশুর স্বাস্থ্যের পক্ষে এটি ক্ষতিকর। তাই এরকম হলে চিকিৎসায় বিলম্ব করা উচিত নয়।

যদি অজীর্ণতার কারণে দুধ তোলে- নাক্সভম ৬।

শ্লেষ্মার কারণে দুধ তুললে- ইপিকাক  ৬।

জমাট দই এর মতো দুধ তুললে- ক্যালক্যারিয়া কার্ব ৩০।

মায়ের খাওয়ার দোষে শিশুর দুধ উঠলে- পালসেটিলা ৬।



রোগটা ‍যদি পুরাতন হয় তাহলে দেওয়া দরকার- ক্রিয়োজোট ৬ বা আর্সেনিক ৬।


আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, ‍সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (সন্ধ্যা ৬:৩৩)
  • ২৩শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৭ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)