আজ বুধবার,১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিশুর ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ।আমাদের সবার জানা জরুরী

                                            শিশুর ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ।

সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো শিশুর ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এবং বি বৃহদাকার আরএনএ ভাইরাস। ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত বয়স্ক রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বা ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকে এ জীবাণু শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। এক থেকে চার দিনের মধ্যে সচরাচর এ রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।

ইনফ্লুয়েঞ্জায় প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে এই রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে। এতে অনেকের মৃত্যুও হয়। দুই বছরের কম বয়সী ও স্থূলকায় শিশুদের ভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। অ্যাজমা, হৃদ্‌যন্ত্রের জন্মগত ত্রুটি, কিডনি, যকৃৎ, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতাজনিত বিভিন্ন ধরনের অসুখে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। স্টেরয়েড বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়, এমন ওষুধ সেবন করা কিংবা এইচআইভিতে আক্রান্ত শিশুরা ইনফ্লুয়েঞ্জায় সংক্রমিত হলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

উপসর্গ

■ ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ জ্বর, মাংসপেশিতে ব্যথা, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, ক্লান্তিভাব, গা ম্যাজম্যাজ করা ও ক্ষুধামান্দ্য। শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম হলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের পথ তৈরি হয়। ফলে শিশু সেপসিস, নিউমোনিয়ার কবলে পড়ে। এতে জ্বরের মাত্রা অনেক বেড়ে যায় এবং শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।

■ ইনফ্লুয়েঞ্জার কারণে অনেক সময় শিশুর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাও শুরু হয়। আবার কখনো গালের পাশের পেরোটিড গ্ল্যান্ড ফুলে যায়, কান পাকে। এ ছাড়া খিঁচুনি, মস্তিষ্কে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।

করণীয়

■ র্যাপিড অ্যান্টিজেন, আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে ইনফ্লুয়েঞ্জা নির্ণয় করা যায়। রোগ চিহ্নিত করার পর সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।

■ শিশুকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও পানীয় দিতে হবে। বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। অসুস্থ অবস্থায় শিশুকে স্কুলে পাঠানোর দরকার নেই। নিউমোনিয়া বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।

■ শিশুর জ্বর হলে প্যারাসিটামল দিতে হবে। তবে কখনো যেন সেলিসাইলেট বা অ্যাসপিরিনজাতীয় ওষুধ দেওয়া না হয়। এসব ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিছুতেই দেওয়া উচিত নয়।

প্রতিরোধমূলক টিকা

শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ৮ বছরের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে। এই টিকা ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগ প্রতিরোধের কার্যকর উপায়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে টিকা দিতে হবে।

অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী(সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল)

চোখ উঠলে যা করবেন ।আমাদের সবার জানা জরুরী

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করা হলো। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন। আবারও আসবো নতুন কোনো বিষয় নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য, সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। করোনাকে ভয় নয় – কেবল সাবধান ও সচেতন থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অন্যদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

পোস্টটি লিখেছেনঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। (অনার্স – অ্যাকাউন্টিং, দিনাজপুর সরকারি কলেজ এবং সিইও – দিনাজপুর স্কুল নামক ইউটিউব চ্যানেল)।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিন বার্তাঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ জাহাঙ্গীর বিন সফিকুল। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

One response to “শিশুর ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ।আমাদের সবার জানা জরুরী”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

ইমেইলে পোস্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন:

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (সকাল ৬:২৩)
  • ২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২০শে রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
  • ১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
জাতীয় হেল্প লাইন