আজ সোমবার,১৮ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২রা আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দ্রুত বীর্যপাত প্রতিরোধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে । আশা করি, পোস্টটি আপনাদের ভালো লাগবে এবং এই পোস্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

দ্রুত বীর্যপাত রোধে চিকিৎসাঃ

এমএনএ ফিচার ডেস্ক : প্রি-ম্যাচিউর ইজেকুলেশন হলো দ্রুত বীর্যপাত। যদি নিয়মিত নারী-পুরুষের মধ্যে ইচ্ছার চেয়ে দ্রুত বীর্যপাত হয়। অর্থাৎ যৌনসঙ্গম শুরু করার আগেই কিংবা যৌনসঙ্গম শুরুর একটু পরেই বীর্যপাত ঘটে। তাহলে যে সমস্যাটি বোঝা যাবে তার নাম প্রি-ম্যাচিউর ইজেকুলেশন। প্রি-ম্যাচিউর ইজেকুলেশন একটি সাধারণ যৌনগত সমস্যা। প্রায় মানুষের মধ্যে এ রোগটি লক্ষ্য করা যায়। তবে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
উপসর্গ : পুরুষের বীর্যপাত হতে কতটা সময় নেবে সে ব্যাপারে চিকিৎসা বিজ্ঞানে আদর্শ মাপকাঠি নেই। দ্রুত বীর্যপাতের প্রাথমিক লক্ষণ হলো নারী-পুরুষ উভয়ের পুলক লাভের আগেই পুরুষটির বীর্যপাত ঘটে যাওয়া। এ সমস্যা সব ধরনের যৌনতার ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। যেমন- হস্তমৈথুন বা যৌনমিলনের সময়।
কারণ : কী কারণে দ্রুত বীর্যপাত হচ্ছে তা নিরূপণ করতে বিশেষজ্ঞরা এখনও পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একসময় ধারণা করা হতো, এটা সম্পূর্ণ মানসিক ব্যাপার। কিন্তু বর্তমানে জানা যায়, দ্রুত বীর্যপাত হওয়া একটি জটিল বিষয় এবং যার সঙ্গে মানসিক ও জৈবিক দুটোরই সম্পর্ক রয়েছে।
মানসিক কারণ : কিছু চিকিৎসক বিশ্বাস করেন, প্রথম বয়সে যৌন অভিজ্ঞতা ঘটলে তা এমন একটি অবস্থায় পৌঁছে যে, পরবর্তী যৌন জীবনে সেটা পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে।

যেমন :
১। লোকজনের দৃষ্টিকে এড়ানোর জন্য তড়িঘড়ি বা তাড়াতাড়ি করে চরম পুলকে পৌঁছানোর চেষ্টা।
২। অপরাধ বোধ, যার কারণে যৌনক্রিয়ার সময় হঠাৎ করেই বীর্যপাত ঘটে যায়। অন্য কিছু বিষয়ও আপনার দ্রুত বীর্যপাত ঘটাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-
পুরুষাঙ্গের শিথিলতা : যেসব পুরুষ যৌনমিলনের সময় তাদের লিঙ্গের উত্থান ঠিকমতো হবে কি না কিংবা কতক্ষণ লিঙ্গ উত্থিত অবস্থায় থাকবে এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলেও দ্রুত বীর্যস্খলন ঘটে।
দুশ্চিন্তা : অনেক পুরুষের দ্রুত বীর্যপাতের একটি প্রধান কারণ দুশ্চিন্তা। যৌনকর্ম ঠিকমতো সম্পন্ন করতে পারবেন কি না তা নিয়েই যত দুশ্চিন্তা। আবার অন্য কারণেও হতে পারে। দ্রুত বীর্যপাতের আরেকটি প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত উত্তেজনা।

জৈবিক কারণ : বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, কিছুসংখ্যক জৈবিক বা শারীরিক কারণে দ্রুত বীর্যপাত ঘটতে পারে।

এসব কারণের মধ্যে রয়েছে-
১। হরমোনের অস্বাভাবিক মাত্রা।
২। মস্তিষ্কের রাসায়নিক উপাদান বা নিউরোট্রান্সমিটারের অস্বাভাবিক মাত্রা।
৩। বীর্যস্খলনে অস্বাভাবিক ক্রিয়া।
৪। থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা।
৫। প্রোস্টেট অথবা মূত্রনালীর প্রদাহ ও সংক্রামণ।
ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় : দ্রুত বীর্যপাতে ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেসব বিষয় –
পুরুষাঙ্গের শিথিলতা : লিঙ্গ ঠিকমতো উত্থিত না হওয়া বা মাঝে মাঝে উত্থিত হওয়া অথবা উত্থিত হয় কিন্তু বেশিক্ষণ এ অবস্থায় না থাকা। এটা দ্রুত বীর্যপাত ঘটানোর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। যৌনসঙ্গমের সময় লিঙ্গের উত্থান অবস্থা বেশিক্ষণ থাকবে না। এমন ভয়ও দ্রুত বীর্যপাত ঘটাতে পারে।
স্বাস্থ্যগত সমস্যা : যদি এমন স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে যার কারণে যৌনমিলনের সময় উদ্বেগ অনুভব করে যথা- হৃদরোগ থাকে। এতেও দ্রুত বীর্যপাতের ঘটনা ঘটতে পারে।
মানসিক চাপ : আবেগজনিত কারণ কিংবা মানসিক চাপ দ্রুত বীর্যস্খলনের ব্যাপারে ভূমিকা রাখে।
জটিলতা : যদিও দ্রুত বীর্যপাত আপনার মারাত্মক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ায় না। কিন্তু এটা ব্যক্তিগত জীবনে ধস নামাতে পারে। যেমন-সম্পর্কে টানাপড়েন। দ্রুত বীর্যপাতের সাধারণ জটিলতা হলো যৌনসঙ্গিনীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি।
প্রতিরোধ : দ্রুত বীর্যপাতের কারণে যৌনসঙ্গিনীর সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ বন্ধন গড়ে উঠতে নাও পারে। চরম পুলকে পৌঁছতে পুরুষের তুলনায় নারীর দীর্ঘ উদ্দীপনার প্রয়োজন হয় আর এই পার্থক্য একটা দম্পতির মধ্যে যৌন অসন্তুষ্টি ঘটাতে পারে। অনেক পুরুষ যৌনমিলনের সময় চাপ অনুভব করেন বলে দ্রুত বীর্যপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
নারী ও পুরুষ একে অপরকে বুঝতে পারলে দুজনের জন্যই যৌন আনন্দ লাভ করা সহজ হয়। এতে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তাও দূর হয়। যদি সঙ্গিনীর কাছ থেকে যৌনসুখ লাভ না করেন তাহলে তার সঙ্গে খোলামেলা আলাপ করুন। আপনাদের মধ্যে সমস্যাটা কোথায় তা খুঁজে বের করুন এবং প্রয়োজনে একজন ভালো হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের সাহায্য নিন। এ ক্ষেত্রে সব লজ্জা ও জড়তা ঝেড়ে ফেলে খোলা মনে আলাপ করুন। দেখবেন সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
চিকিৎসা : এ রোগের চিকিসৎসার জন্য হোমিওপ্যাথিতে Agnus cast, Turnera, Lycopodium, Tribulas সহ কয়েকটি ওষুধ রয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় একেক রোগীর একেক ধরনের ওষুধ প্রয়োগের নিয়ম রয়েছে। রোগী, রোগের লক্ষণ ও মাত্রা ভেদে এসব ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। তাই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ না করে কেউ ওষুধ সেবন করবেন না। তাহলে বিপদে পড়তে পারেন।

বলতে গেলে প্রায় সব পুরুষের জীবনে কোনো না কোনো সময় প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন বা দ্রুত বীর্যপাত হয়। বিশেষ করে অল্প বয়সী পুরুষদের বেলায় বেশি হয়। তবে সবসময় এটাকে রোগ বলা যায় না। স্বাভাবিক ভাবেই এমনটা হতে পারে।
নারী পুরুষ দুজন ভিন্ন মানুষ। তাদের দুজনের শারীরিক প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হবে সেটাইতো স্বাভাবিক। পরস্পরের শরীর বুঝে তাল মিলিয়ে নিলে অনেকেরই এ ধরনের সমস্যা চলে যায়। এর জন্য প্রয়োজন যৌন বিষয়ে বিজ্ঞানসম্মত জ্ঞান। তাই বলা যায় অনভিজ্ঞ যারা এই সমস্যায় ভুগছেন তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই সমস্যাটা রোগ আকারে নেই। জানা বোঝার দুর্বলতাই তাদের এ ধরনের সমস্যায় ভোগার একমাত্র কারণ।

দ্রুত বীর্যপাতকে রোগ বলব যখন
১. কোনো ব্যক্তির লিঙ্গ তার স্ত্রীর ভ্যাজাইনা বা যোনিপথে প্রবেশ করানোর এক মিনিটের মধ্যে বীর্যপাত হয়ে যায়।
২. তিনি চাইলেও যদি যৌনমিলনের সময়কালকে দীর্ঘায়িত করতে না পারেন, অর্থাৎ বীর্যপাতের উপর যদি তার নিয়ন্ত্রণ না থাকে।
৩. স্ত্রীর যৌন আকাঙ্ক্ষার তৃপ্তি না হওয়ার কারণে যদি দাম্পত্য জীবন যন্ত্রণাদায়ক হয়।

বীর্যপাতের ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত শর্তগুলো পূরণ হলেই কেবল তখনই কেবল তাকে দ্রুত বীর্যপাত বা প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন রোগ হিসেবে সনাক্ত করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে যৌন বিষয় ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে দম্পতিদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া বা সম্পর্ক থাকতে হবে। সম্পর্কের সমস্যা থেকে যৌন সমস্যা হলে ডাক্তারি মতে তাকে যৌন রোগ বলা যাবে না।

দ্রুত বীর্যপাতের শিকার হন যারা
● সাধারণত কম বয়সী পুরুষ, যাদের যৌন অভিজ্ঞতা কম।
● প্রথমবারের মতো যারা যৌন মিলন করছেন অথবা নতুন কোনো সঙ্গিনীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করছেন।
● সে সব পুরুষ স্ত্রীর সঙ্গে থাকেন না, ব্যবসা বা চাকরির কারণে দূরে থাকেন এবং অনেকদিন পরপর শারিরীক সম্পর্ক করার সুযোগ পান।
● যৌন মিলনে যারা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকেন বা দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় যৌন মিলন করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা যায় যে, দ্রুত বীর্যপাত পুরুষদের মধ্যে একটি প্রধানতম যৌন সমস্যা। সাধারণভাবে বলা যায় শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ লোক এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে দেখা যায় যে, এ সমস্যা ১৭ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত বয়সে হতে পারে, এর গড় হার ২২ দশমিক ৭ ভাগ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ভাগ, জার্মানিতে ২০দশমিক ৩ ভাগ, ইটালিতে ২০ ভাগ। আর বাংলাদেশে পরিচালিত একটি সমীক্ষায় এর হার ২৭ ভাগ।

দ্রুত বীর্যপাতের কারণ

শারীরিক কারণ
● সেরোটোনিন নামক এক ধরনের জৈব রাসায়নিক উপাদানের ঘাটতি।

মানসিক কারণ:
● যৌন বিষয়ে অনভিজ্ঞতা।
● যৌন বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞানের অভাব।
● যৌনতা সংক্রান্ত ভ্রান্ত ও অবৈজ্ঞানিক ধারণা ।
● যৌনতা সংক্রান্ত নেতিবাচক ধারণা, যেমন- যৌনতা মানেই খারাপ,এই বিষয়ে চিন্তা করা, আলোচনা করা খারাপ ছেলেদের কাজ ইত্যাদি।
● হস্তমৈথুন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা, যেমন হস্তমৈথুনে যৌন ক্ষমতা নষ্ট হয়।
● সঙ্গিনীকে যৌন তৃপ্তি দেওয়া সংক্রান্ত অনিশ্চয়তায় ভোগা।
● ছোটবেলায় যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া।
● মাদকাসক্ত রোগী নেশা ছাড়ার পর পর অথবা মানসিক কিছু কিছু রোগের ওষুধ গ্রহণ শুরু করার পর দ্রুত বীর্যপাত হতে পারে।

দ্রুত বীর্যপাত থেকে যেসব সমস্যা দেখা দেয়:
● যৌনমিলনে অনীহা ।
● লিঙ্গ উত্থান জনিত সমস্যা।
দ্রুত বীর্যপাত যেন না হয় এজন্য অনেকেই মিলনের সময় মনোযোগ অন্যত্র সরিয়ে নেন অথবা লিঙ্গে কম অনুভূতি গ্রহণ করেন। ফলে অনেক সময় মনোযোগের অভাবে লিঙ্গ নরম হয়ে যায়। তাতে যৌনমিলন বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আবার মিলনের সময় এই মনোসংযোগহীনতার জন্য স্ত্রীর বিরক্তি, যৌন আবেগের ঘাটতি হিসেবে দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে দিকে বার বার দ্রুত বীর্যপাতের জন্য স্ত্রী যৌন মিলনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে হবে ভেবে, কোনো কোনো পুরুষ এক ধরনের প্রত্যাশা জনিত চাপ বা পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটিতে ভুগতে শুরু করেন। ফলে তার মনে স্বাভাবিক যৌন আগ্রহের পরিবর্তে পরীক্ষা পাশের ভীতি কাজ করতে শুরু করে। যৌনমিলন তখন তার কাছে হয়ে যায় পরীক্ষার মতো নিরস ভীতিকর চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। তখন দেখা দেয় লিঙ্গ উত্থান জনিত সমস্যা। তার প্রভাব পড়ে দাম্পত্য সম্পর্কে ।

চিকিৎসা বা প্রতিকার
● দ্রুত বীর্যপাত একটি নিরাময়যোগ্য সমস্যা। দুইভাবে এর চিকিৎসা করা হয়। ওষুধ ও সেক্সথেরাপি।

ওষুধ:
কিছু কিছু ঔষধ আছে যা বীর্যপাতকে বিলম্বিত করে মিলনের সময়কে দীর্ঘায়িত করে। ডেপোক্সিটিন সে ধরনের একটি ঔষধ। যা বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বে এবং বাংলাদেশে দ্রুত বীর্যপাত রোগের একমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত ঔষধ। ঔষধটি দুই স্নায়ুর সংযোগস্থলে সেরোটেনিন জাতীয় নিউরোট্রান্সমিটারের পরিমান বাড়িয়ে দিয়ে বীর্যপাতকে বিলম্বিত করে। ফলে মিলনের সময় দীর্ঘায়িত হয়।

সাইকোথেরাপী/সেক্সথেরাপী
● সাইকোথেরাপী হল বিশেষ ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে মানুষের চিন্তা চেতনা আবেগ অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে অসুস্থতাকে সাড়িয়ে তোলা হয়। আর তা করা হয় কথা বলার মাধ্যমে।
● যৌন সমস্যার সমাধান যে ধরনের সাইকোথেরাপীর মাধ্যমে করা হয় তাকে সেক্সথেরাপী বলে।
● এটি একটি বিশেষায়িত সাইকোথেরাপী (সেক্সথেরাপী) যা দ্রুত বীর্যপাতে কার্যকরী । এর উদ্দেশ্য হচ্ছে দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রী,প্রত্যেকের সেক্স-এর ব্যাপারে আস্থা ফিরিয়ে আনা ও আবেগের সঠিক প্রকাশ নিশ্চিত করা।
● যৌনমিলন ছাড়াও দম্পতির পারস্পরিক বোঝাপড়ায ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
● মোটামুটি ৬-১০টি সেক্সথেরাপী সেশনের মাধ্যমে দ্রুত বীর্যপাত এর চিকিৎসা সম্ভব। আর তাতে সময় লাগে মাত্র তিন সপ্তাহ।সারা জীবনের কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসাকালটি অল্পই বলা যায়।

বিজ্ঞানের এই আধুনিক যুগেও সেক্স সম্পর্কে যথেষ্ট কু-সংস্কার ও ভ্রান্তধারণায় বাস করছি ।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ পরিচালিত সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিকে কাজ করতে যেয়ে তেমনই একটি বাস্তব চিত্রের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা প্রতিনিয়ত।এ সম্পর্কিত উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরও বাংলাদেশে যথেষ্ঠ ঘাটতি রয়েছে। ফলে বহু সম্ভাবনাময় দম্পত্তির দাম্পত্য জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
দ্রুত বীর্যপাত একটি নিরাময়যোগ্য সমস্যা। ঔষধ ও সেক্সথেরাপির মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনের যৌন অসুবিধা দুর করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।

প্রথম প্রথম সব মানুষের ক্ষেত্রেই অনভিজ্ঞতা, লজ্জা, নিজের উত্তেজনা কে নিয়ন্ত্রন করতে না পারা ইত্যাদির কারনে এমন টা হতে পারে। চিন্তার কিছু নেই। সময় নিন, তাড়াহুড়া করে মিলিত হবেন না। এই মুহূর্তে আপনার চিকিৎসকের কাছে যাবার প্রয়োজন নেই বলেই মনে হয়। বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আপনার যে সমস্যা, সেটা খুবি স্বাভাবিক। সবার আগে দ্রুত বলতে আপনি কি বোঝান তা বুঝতে হবে । একটি ছেলের যদি করার সময় ১০মিনিটের মাথায় বীর্যপাত হয়, সেটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক । একে দ্রুত বীর্যপাত বলা যাবে না । এমনকি ৬-৭ মিনিট ও স্বাভাবিক বলা হয় । আপনি তখনি আপনার এ বিষয় টি নিয়ে চিন্তা করবেন যখন আপনার তার থেকেও কম অর্থাৎ ১-৫ মিনিটে বের হয়ে যাবে । কেবল তখনি আপনি বলতে পারবেন যে আপনার এ সমস্যা অর্থাৎ দ্রুত বের হয়ে যাচ্ছে। চিন্তার কোন কারণ নেই । মূল আলোচনার আগে আর একটি প্রচলিত ধারণার কথা বলা যাক । অনেক মানুষ ই আছেন যারা মনে করেন তার অধিকাংশ সমস্যার কারণ মাস্টারবেশন । এটি ভুল ধারণা । মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুন সম্পুর্ণ স্বাভাবিক একটি ব্যপার । এতে আপনার কোন দিক দিয়েই কোন ক্ষতি হবার চান্স নেই । এই কথাটি বলার কারণ খুব ই সরল । কারণ অনেকেই মনে করে তার দ্রুত বীর্যপাতের আসল কারণ সে অনেক মাস্টারবেট করে । এখানে একটি থিওরি আছে ।বোঝানোর চেষ্টা করছি । ধরুণ আপনি বাথরুমে গেলেন মাস্টারবেশন করতে । আপনি যসি ২০ মিনিট ধরে করেন তাহলে অবশ্যই আপনার বাসা থেকে ডাকাডাকি হবে , না হলেও আপনার অবচেতন মন ই আপনাকে তাড়া দেবে । এজন্য যা হয় তা হল , অবচেতন ভাবেই ছেলেরা মাস্টারবেট করতে করতে দ্রুত কিভাবে বের করা যায় সেটা শিখে ফেলে । পরে সেক্স করার সময় মনের অজান্তেই হয়তো পেনিসের তার সেই স্পেশাল জায়গা অথবা তার সে বিশেষ স্টাইল সে ধরে ফেলে , ফলে তাড়াতাড়ি বের হয়ে যায় । এখন , যাদের আসলেই দ্রুত বের হয়ে যায় তারা কি করবেন ? কারণ অবশ্যই , আপনার গার্লফ্রেন্ড বা ওয়াইফ আপনার পেনিস মুখে নিল , আর আপনার বের হয়ে গেল কিছু করার আগেই , অথবা ধরলো আপনার পেনিস , সাথে সাথে বের হয়ে গেল , অথবা আপনার গার্লফ্রেন্ড বা পার্টনার হয়তো উত্তেজক কিছু করলো আপনার সাথে , তখনি বের হয়ে গেল । এগুলো হল সমস্যা। সলিউশনে যাই এবার আমরা । একটি ব্যপার স্বাভাবিক । ধরুন আপনি অনেকদিন করেন না , আপনার পার্টনারের সাথে অনেকদিন পর করতে গিয়ে উত্তেজনায় দ্রুত বের হয়ে আসলো স্পার্ম । এটি স্বাভাবিক , এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই । এটি আপনার অক্ষমতা নয় । এবার আসুন দেখি যাদের দ্রুত বের হয়ে যায় তারা কি কি করতে পারেন – – হাতের ওপর জোর বাড়ানো । অনেক সময় দেখা যায় ছেলেরা করার সময় সব বা প্রায় সব ভর পেনিস এই দিয়ে থাকে , এতে দ্রুত বের হয়ে যেতে পারে তাই হাতে জোর বাড়াতে হবে । – এক পজিশনে বেশিক্ষণ না করে পজিশন বদলে বদলে করতে হবে । – একটি পদ্ধতি হল একবার বের করে দেয়া । আপনি আপনার স্পার্ম পার্টনার কে দেখিয়ে তার গায়ে অথবা অন্য কোথাও সেক্স এর আগেই বের করুন একবার। সে হর্নি হবে দেখে । এবার পেনিস টা ভালমত পানি দিয়ে ধুন । এবার ২মিনিট ব্রেক এর পর আস্তে আস্তে আবার কিসিং শুরু করুন । ১৫মিনিটের মাথায় আবার ঢুকাতে সক্ষম হবার কথা । – ঢোকানো অবস্থায় যদি আপনার মনে হয় যে এখনি বের হয়ে আসছে তখন আর সোজা ধাক্কা না দিয়ে ঘোরানো শুরু করুন । হাত দিয়ে পেনিস ধরবেন না । – একটি অভ্যাস প্র্যাকটিস করুন বাসায় । নিজে পেনিস কে উত্তেজিত করে বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নিয়ে যান , এর পর আবার স্বাভাবিক হোন বের না করে । এটি সপ্তাহে একবারের বেশি না করাই ভাল কারণ এতে দেহের ক্ষতি হতে পারে ।

যৌন শক্তি বৃদ্ধির ১০ উপায়!যৌব জীবন সুখের হবে!

 

আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, পোস্টটি পড়ে অবশ্যই উপকৃত হয়েছেন। আবারও আসবো নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই সুস্থ্য, ‍সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন। করোনাকে ভয় নয় – কেবল সচেতন থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিন বার্তাঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ জাহাঙ্গীর বিন সফিকুল। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

ইমেইলে পোস্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (রাত ২:৩৯)
  • ২রা আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২২শে জিলহজ ১৪৪২ হিজরি
  • ১৮ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)
জাতীয় হেল্প লাইন