আজ বৃহস্পতিবার,১৯শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৪ঠা মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Homeopathy Doctor

হোমিওপ্যাথি ডাক্তার হতে গেলে যেখানে পড়তে হয় – বিস্তারিত

হোমিওপ্যাথিতে পড়াশোনা


 

সানরাইজ৭১ এর আজকের এই লিখায় সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। এই লেখাটি মূলত তাদের জন্য বেশি উপকারি যারা হোমিওপ্যাথিতে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক। কারণ, বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার আদ্যোপান্ত এখানে বর্ননা করা হয়েছে।

আমরা জানি, দুটি চিকিৎসা ব্যবস্থা সমগ্র বিশ্ব জুড়েই মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। একটি হলো অ্যালোপ্যাথি আর দ্বিতীয় হলো হোমিওপ্যাথি। অ্যালোপ্যাথিতে বড় ডাক্তার হতে গেলে অনেক কাঠ-খড় পোহাতে হয়। কেন বলছি এ কথা তা হয়তো অনেকেই জানেন।

কারণ, ইন্টারমিডিয়েট পাশের পরে আপনাকে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর সাথে পরীক্ষা দিয়ে টিকতে হয়। স্বল্প সংখ্যক মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশে। আবার, প্রাইভেটে ভর্তি হতে যদিও তেমন কাঠ-খড় পোহাতে হয় না কিন্তু টাকা লাগে প্রচুর যা সাধারণ পরিবারগুলোর পক্ষে ব্যয়ভার বহন করা মোটেও সম্ভব নয়।

যাইহোক, অ্যালোপ্যাথির বিষয় নিয়ে অন্যদিন আরও বিস্তারিত বলবো। আমরা মূলত বলবো হোমিওপ্যাথি নিয়ে। অ্যালোপ্যাথির পরেই যে চিকিৎসা ব্যবস্থা মানুষের অন্তরে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে তা হলো হোমিওপ্যাথি।

এই চিকিৎসা ব্যবস্থায় মূলত খরচ অনেক কম এবং চিকিৎসা পদ্ধতি জটিল নয় তাই এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। পেশা হিসেবে হোমিওপ্যাথি বর্তমানে অনেক সম্মানের যদি ভালো ডাক্তার হওয়া যায়।


 

পড়াশোনা কোথায় করবেন?

বাংলাদেশে একটি মাত্র সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ রয়েছে যেখানে বি,এইচ,এম,এস (ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারী) ডিগ্রী পড়ানো হয়। এটি রাজধানী শহর ঢাকার মিরপুরের ১৪ নম্বরে অবস্থিত।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রয়েছে পাঁচ বছর মেয়াদী ডিগ্রী কোর্সে পড়ার সুযোগ। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অনুষদের অধিভুক্ত কলেজসমুহে এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের অধিভুক্ত কলেজসমুহে হোমিওপ্যাথির ওপর পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ৪৪টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এসব কলেজে সাড়ে চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্সে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। এই সাড়ে চার বছর মেয়াদী কোর্সগুলোকে বলা হয় ডি,এইচ,এম,এস কোর্স অর্থাৎ ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারী। চার বছর ধরে একাডেমিক পড়াশোনা করানো হয় এবং ছয় মাস ইন্টার্নী করানো হয়।


 

ব্যাচেলর কোর্সে যদি পড়তে চানঃ

বি,এইচ,এম,এস (ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারী) কোর্সটি হলো পাঁচ বছর মেয়াদী। এই কোর্সটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অনুষদ। এখানে কোর্স শেষে এক বছরের ইন্টার্নী করতে হয়। এখানে ক্লাস হয় সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর দুই টা পর্যন্ত।

এই মেডিকেল কলেজে আপনি যদি ভর্তি হতে চান তবে আপনার এস,এস,সি’তে বিজ্ঞান বিভাগ থাকতে হবে। এখানে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে পাঁচটি বিষয়ে মোট ১২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। আবার, তৃতীয় বর্ষে ঐ পাঁচ বিষয়ে আরও ৯৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়।

চতুর্থ বর্ষে এসে পাঁচ বিষয়ে মোট ১০৫০ এবং শেষ বর্ষে ছয় বিষয়ে মোট আরও ৯৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। পূর্বে যারা ডি,এইচ,এম,এস পাশ করে এই মেডিকেলে শেষ বর্ষে বি,এইচ,এম,এস কোর্সে ভর্তি হতে পারতো এখন তারা আর এটা পারে না।

কারণ, এই নিয়মটি উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন, আপনি যদি ডি,এইচ,এম,এস কোর্সধারী হয়ে থাকেন এবং বি,এইচ,এম,এস করার ইচ্ছা থাকে তবে নতুন করে প্রথম বর্ষে ভর্তি হতে হবে। এটা বাস্তবিক পক্ষেই ডি,এইচ,এম,এস কোর্সধারীদের জন্য অসম্মানজনক। এটি নিয়ে এখনও আন্দোলন চলছে।


 

পোস্ট ডিপ্লোমা ট্রেনিং ইন হোমিওপ্যাথ কোর্সঃ

এই কোর্সটি করা যায় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। অবশ্যই আপনাকে ডি,এইচ,এম,এস পাশ হতে হবে। তবেই আপনি এই কোর্স করার সুযোগ পাবেন। কোর্সটির মেয়াদ মাত্র এক বছর।

এই কোর্সে আপনাকে সাতটি বিষয় পড়ানো হবে। এরপর আবার হোমিও হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সাধারণত যেকোন বছরের জুলাই ও ডিসেম্বর মাসে এই কোর্সে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। কোর্সটি কমপ্লিট করতে আপনার খরচ হতে পারে ২৫-৩০ হাজার টাকা।


 

ডিপ্লোমা কোর্সে যদি পড়তে চানঃ

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের অধীনে এই কোর্সটি পরিচালিত হয়। কোর্সটির মেয়াদ সাড়ে চার বছর (ইন্টার্নী সহ)। এখানে দিবা শাখা এবং নৈশ শাখার ব্যবস্থা আছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে দিবা শাখা এবং চাকরীজীবি ও অন্যান্য পেশার মানুষের জন্য রয়েছে নৈশ শাখা।

দিবা শাখার ক্লাস হয় সকাল এগারটা থেকে দুপুর দুই টা পর্যন্ত। ওদিকে, নৈশ শাখার ক্লাস হয় বিকাল পাঁচটা থেকে রাতে সাড়ে আটটা পর্যন্ত। শুধুমাত্র এস,এস,সি পাশ হলেই এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। তবে কারও যদি উচ্চতর ডিগ্রী থাকে তবে ভর্তির ক্ষেত্রে তাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়।

মোট চার বছরে এখানে পচিশটি বিষয় পড়ানো হয়। জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসেই ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে ভর্তির ফি নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড। কলেজভেদে চার বছরে খরচ হতে পারে ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা। পূর্বে কম লাগতো । এখন ফি এর হার বাড়ানো হয়েছে। বলা চলে দ্বিগুণ করা হয়েছে।


 

আপনার ভবিষ্যতঃ

ভালো মতো যদি পাশ করতে পারেন মানে ভালো ফলাফল নিয়ে যদি পাশ করতে পারেন তবে যেকোন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কাজের সুযোগ পাবেন। সেটা হোক সরকারি কিংবা বেসরকারি।

এছাড়াও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রকল্পে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। শুনতেছি, উপজেলা বা থানা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে একজন করে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। এটিও আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে।

এছাড়াও শহরে কিংবা কোনো মফস্বল শহরে যেখানে লোক-সমাগম বেশি হয় সেখানে ব্যক্তিগত চেম্বার খুলে বসতে পারেন। এর জন্য হোমিওপ্যাথিক বোর্ড থেকে আপনাকে লাইসেন্স নিতে হবে। আপনি ইচ্ছে করলেও আপনার বাড়ি থেকেও মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা তথা চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন।


 

কেমন আয়-রোজগার হতে পারেঃ

যদি চাকুরী করেন তবে হিসাবটা আলাদা। আর যদি চেম্বার খুলে বসেন তবে এটা নির্ভর করবে আপনার দক্ষতার উপর। তবে সাধারণত একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক শুরুতেই অন্তত মাসে ২০ হাজার টাকার উপরে ইনকাম করতে পারে।

জনপ্রিয়তা যতো বাড়ে ইনকামও ততো বাড়ে। রোগী দেখার পাশাপাশি আপনি নিজেই যদি ওষুধ সাপ্লাই দেন তবে আপনার ইনকাম আরও বেড়ে যাবে। বর্তমানে কিছু কিছু হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের ইনকামের কথা শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। আসলে, একদিনে তারা এতো দূর আসেনি। তাদের অনেক কষ্ট করেই এতোদূর আসতে হয়েছে।


 

আজ আর নয়। এখন আপনার নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিন। ডাক্তার হতে চান নাকি চান না সেটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে, হোমিওপ্যাথিতে ভালো ডাক্তার হতে গেলে প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। প্রচুর ধৈর্য্য থাকতে হয়। নতুবা হাতুড়ে ডাক্তার হয়ে তেমন কোনো উন্নতি করতে পারবেন না।

ইন্টারমিডিয়েট পাশের পর একটু ভালো মতো চেষ্টা করলেই সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেলে চান্স পাওয়া যায়। সো, এবার সিদ্ধান্ত নেয়ার পালা আপনার। আগামী দিনে দেখা হবে নতুন কোনো বিষয় নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন – সুস্থ্য থাকুন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

5 responses to “হোমিওপ্যাথি ডাক্তার হতে গেলে যেখানে পড়তে হয় – বিস্তারিত”

  1. Hs pass hole ki homoepathe corse পড়াশুনা করা সম্ভব।and kata taka kharach habe.plz ei no:8388902642 বলবেন ok.

  2. Hs pass ki homoepathe porteparbe and kata taka kharach habe plz bolben.

  3. ফিরোজা আক্তার says:

    সরকারি প্রতিষ্টানে পড়তে চাইলে কি ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (রাত ১০:৩৭)
  • ৪ঠা মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৯শে রজব ১৪৪২ হিজরি
  • ১৯শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)