আজ মঙ্গলবার,৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Sample Image of Questions & Answers

হোমিওপ্যাথি বিষয়ক ৫টি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর – সবার জন্য জানা জরুরী

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিষয়ক প্রশ্নোত্তর


১। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নির্বাচন করার পদ্ধতি কি?

উত্তরঃ আমরা সকলেই জানি, হোমিওপ্যাথি হচ্ছে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। যেমন রোগের লক্ষণ তেমন হবে চিকিৎসা। ভুলে গেলে চলবে না যে, রোগের লক্ষণগুলোই হলো রোগের প্রকৃত পরিচয় পাওয়ার একমাত্র পথ। তাই, যদি কোন ডাক্তার রোগীর শারীরিক লক্ষণসমুহ, মানসিক লক্ষণসমুহ এবং রোগীর আনুষঙ্গিক আরও কিছু লক্ষণ সংগ্রহ করতে না ব্যর্থ হন তবে সঠিক ওষুধ নির্বাচন করা সম্ভবপর নয়।

তখন বার বার ওষুধ পরিবর্তন কিংবা ওষুধের পাওয়ার পরিবর্তন করে দিলেও উপকার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তবে ভুল করে যদি কোন ওষুধ লক্ষণের সাথে মিলে যায় সেই হিসাবটা আলাদ। ঠিকভাবে লক্ষন মিলিয়ে ওষুধ দিতে পারলে অনেক বছরের পুরনো রোগও কিন্তু এক/দুই ডোজ ওষুধেই সেরে যায়।

হোমিওপ্যাথিতে আসলে রোগের নামানুসারে কোনো ওষুধ নেই। অনেকগুলো রোগীর যদি একই রোগ থাকে তবুও একই ওষুধে সব রোগী ভালো হবে না। কারণ, রোগ একই হলেও রোগীদের মধ্যে লক্ষণগত অমিল আছে। উদাহরণস্বরুপ আমরা যদি আমাশয়ের কথা বলি, আমাশয়ের সাথে যদি পেট ব্যথা থাকে তবে এক ওষুধ আর যদি পেট ব্যথা না থাকে তবে আরেক ওষুধ।

আমাশয় শুরু হওয়ার কারণের উপর ভিত্তি করেও ওষুধ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। ব্যথা বা পায়খানার রঙ, গন্ধ বা ধরণ বা পরিমাণের উপর ভিত্তি করেও ওষুধ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। সুতরাং কোনো রোগীর লক্ষণসমুহ যে ওষুধে সবচেয়ে বেশি পাবেন সেটিই হবে আপনার উপযুক্ত ওষুধ।

আবার, শারিরীক লক্ষণের চেয়ে মানসিক লক্ষণের গুরুত্ব বেশি। কারও শারীরিক লক্ষন যদি রাসটক্স ওষুধটির সাথে মিলে যায় আর যদি মানসিক লক্ষণ অ্যাকোনাইট ন্যাপ এর সাথে মিলে যায় তবে আপনার উচিত হবে অ্যাকোনাইট ন্যাপ প্রয়োগ করা। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন।

 

২। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কেনার নিয়ম-কানুন কি?

উত্তরঃ হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৈরী হয়ে থাকে। যেমন ধরুন – জার্মানী, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজার‌ল্যান্ড, পাকিস্তান প্রভৃতি। বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানী আছে প্রায় ৭৮টি। সাধারণত, জার্মানী কিংবা আমেরিকান ওষুধগুলো ভালো কাজ করে।

এই দেশে তৈরীকৃত ওষুধগুলোর মান যাচাই করা হয় খুব ভালোভাবে। এগুলো যে মানসম্মত পর্যায়ে পড়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সাধারণত লিকুইড আকারে বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু, রোগীদের দেয়ার বেলায় এগুলো হয়তো পানির সাথে কিংবা গ্লোবিউলসের সাথে মিক্সড করে দেয়া হয়।

সরাসরি মূল ওষুধটি খাওয়া উচিত নয়। এতে আপনার শরীরে ক্ষতি হতে পারে। সুতরাং আপনি যখন কোনো দোকানে ওষুধ কিনতে যাবেন তখন জার্মানী কিংবা আমেরিকান ওষুধ কেনার চেষ্টা করবেন। আর মিলি আকারে না কিনে এক ড্রাম বা ‍দুই ড্রাম এই আকারে কিনবেন।

 

৩। হোমিওপ্যাথি ওষুধের মেয়াদ কতদিন পর্যন্ত থাকে?

উত্তরঃ এক কথায় যদি উত্তর দেই তবে আপনারা সত্যিই একটু অবাক হবেন। আসলে, হোমিওপ্যাথি ওষুধের কোনো মেয়াদ উত্তীর্ণ (এক্সপাইরি) ডেট নেই। এগুলোতে থাকে মূলত অ্যালকোহল বা রেকটিফাইড স্পিরিট। আর এগুলো কখনো নষ্ট হয় না।

আর তাই মূল হোমিওপ্যাথিক ওষুধও যেহেতু রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিশ্রিত থাকে তাই এগুলোর মেয়াদ আজীবন থাকে। কিন্তু, বোতল থেকে ঢেলে নিয়ে গ্লোবিউলসের সাথে কিংবা পানির সাথে যখন মিক্সড করবেন ওষুধ – তখন আর আজীবন ব্যবহার করতে পারবেন না।

সেগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভালো থাকে। তারপর ওষুধের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। গ্লোবিউলস যদি কালো বা নীল বা হলুদ হয়ে যায় তবে ধরে নিবেন যে সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। ওগুলো আর ভুলেও খেতে যাবেন না। তবে, বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুসারে বিভিন্ন বাংলাদেশী কোম্পানীর তৈরী করা ওষুধগুলোতে ১০ বছর মেয়াদ উল্লেখ থাকে। কিন্তু এটা আসলে আজীবন ব্যবহার করা সম্ভব।

 

৪। কত শক্তির ওষুধ খাবেন?

উত্তরঃ এটা আসলে নির্ভর করে আপনার রোগের উপর। বিশেষত পুরাতন নাকি নতুন রোগ। হোমিওপ্যাথিতে বিভিন্ন শক্তির ওষুধ রয়েছে। হোমিওপ্যাথিক ওষুধের শক্তিগুলো হলো – ৩, ৬, ১২, ৩০, ২০০, ১০০০ (১এম), ১০০০০ (১০ এম), ৫০০০০ (৫০ এম), ১০০০০০ (সিএম) ইত্যাদি। হোমিওপ্যাথিক ওষুধের মূল ওষুধটিকে বা সবচেয়ে নিম্ন শক্তির ওষুধটিকে বলা হয় মাদার টিংচার যাকে ইংরেজীতে Q দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

এর শক্তি ধরা হয় শুন্য। আর ৩, ৬, ১২, ৩০ কে বলা হয় নিম্ন শক্তির ওষুধ। ২০০ কে বলা হয় মধ্যম শক্তি। আর ১০০০, ১০০০০, ৫০০০০ বা ১০০০০০ কে বলা হয় উচ্চ শক্তি। সাধারণত নতুন কোনো রোগের ক্ষেত্রে নিম্ন শক্তি ও মধ্য শক্তির ওষুধ সবচেয়ে ভালো কাজ করে। পুরনো রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো কাজ করে উচ্চ শক্তির ওষুধ। হোমিওপ্যাথির জনক মহাত্মা স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের মতে, ৩০ শক্তি হলো স্ট্যান্ডার্ড শক্তি বা আদর্শ শক্তি।

আপনি যেকোন রোগে উচ্চ মাত্রার ওষুধও খেতে পারেন যদি লক্ষণসমষ্টি খুব ভালো করে মিলে যায়। পার্থক্য এখানেই যে, নিম্ন শক্তির ওষুধ খেতে হবে কয়েক মাত্রা আর উচ্চ শক্তির ওষুধ এক মাত্রাই যথেষ্ট। কিন্তু এ কথা মনে রাখতে হবে যে, উচ্চ শক্তির ওষুধ ঘন ঘন খেলে বিপদ হতে পারে।

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনো এ কাজ করতে যাবেন না। মহাত্মা হ্যানিম্যানের নির্দেশনা হলো – প্রত্যেকবার বা প্রতিবার ওষুধের শক্তি বৃদ্ধি করে খেতে হবে। যদি আপনার কাছে একাধিক শক্তির কোনো ওষুধ না থাকে তবে এক মাত্রা (এক ফোটা বা ৪/৫ টি বড়ি) ওষুধকে আধা বোতল পরিষ্কার পানিতে মিশ্রিত করে প্রতিবার খাওয়ার পূর্বে জোরে ১০ বার ঝাঁকি দিয়ে খান। এতে ওষুধের শক্তি বৃদ্ধি পায়।

 

৫। ওষুধ কি পরিমাণে খাওয়া উচিত?

উত্তরঃ যারা পূর্ণ বয়স্ক তারা যদি বড়িতে খান তবে সর্বোচ্চ ৪/৫ টি করে বড়ি খাবেন এবং মূল তরল ওষুধ খেলে এক ফোঁটা করে খাওয়াই যথেষ্ট। তের বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ২/৩ টি বড়ি এবং মূল ওষুধ আধা ফোটা পানির সাথে মিশ্রিত করে খেতে হবে। দিনে সর্বোচ্চ তিন বার করে খাওয়া যেতে পারে।

রোগের বয়স, লক্ষণ এবং রোগীর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ওষুধের খাওয়ার নিয়ম পরিবর্তন হতে পারে। আপনাকে যে ডাক্তার চিকিৎসা দেবে তিনি অবশ্য এই ব্যাপারে আপনাকে নির্দেশনা দিয়েই দিবেন।

আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকুন। দেখা হবে পরবর্তী কোনো পোস্টে। আসবো নতুন নতুন আরও বিভিন্নরকম জানা অজানা প্রশ্নের উত্তর নিয়ে।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ২:০৯)
  • ২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৮ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)