আজ শনিবার,১০ই আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শ্বেতপ্রদর/সাদাস্রাব (Leucorrhoea) রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

শ্বেতপ্রদর/সাদাস্রাব (Leucorrhoea) রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো শ্বেতপ্রদর/সাদাস্রাব (Leucorrhoea) রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ? তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।
সাদাস্রাবঃ জরায়ু থেকে যোনিদ্বার দিয়ে সাদা, হলুদ বা দুধের মত যে স্রাব বের হয়, তাকে শ্বেত প্রদর বা সাদাস্রাব বলে। ঋতুর গোলযোগ, অতিরিক্ত সহবাস, অনিয়মিত ঋতু, জরায়ূর স্থানচ্যুতি, হস্তমৈথুন, অতিরিক্ত পরিশ্রম, আলস্যতা, স্বাস্হ্য ভঙ্গ, ছোট ছোট ক্রিমি ইত্যাদি কারনে শ্বেত প্রদর রোগ হয়ে থাকে।
লক্ষণ
বেশি পরিমাণ নিঃসরণ যাতে পরনের কাপড়, পেটিকোট, পাজামা বা প্যান্টি বেশি ভিজে যায়। নিঃসরণের সাথে যোনিপথ ও আশেপাশের অংশ চুলকায়। নিঃসরণের সাথে দুর্গন্ধ বের হয়। নিঃসরণ স্বচ্ছ সাদা, তরল ও পিচ্ছিলের পরিবর্তে বাদামী, সবুজ, হলুদ বা ঘন সাদা থকথকে হয়। ফেনাযুক্তসাদা বা চাল ধোয়া পানির মতো তরল পদার্থ বের হয়।
জটিলতা
অতিরিক্ত সাদাস্রাব শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও আমিষ বের করে দেয়। এ সময়ে পুষ্টি, বিশ্রাম ও সচেতনতার অভাবে শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয় এবং এক সময় ক্ষয় হতে শুরু করে। এ ধরনের উপসর্গ শুধু অস্বস্তি তৈরি করে না বরং বিভিন্ন রোগেরও উপসর্গ; বিশেষ করে জীবাণু সংক্রমণ। এই সংক্রমণের ক্ষেত্রে অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসাবে বিবেচ্য।
প্রতিকার
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিশেষ করে নিরাপদ পানি ব্যবহার, মাসিকের সময় পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত কাপড় বা প্যাড ব্যবহার করা, প্রতি ৬ ঘণ্টা পর পর অবশ্যই তা পরিবর্তন ও জীবাণুমক্ত করা। মাসিকের পর ব্যবহার্য কাপড় পুনরায় ব্যবহার না করা ভালো তবে করতে হলে তা গরম পানিতে জীবাণুমুক্ত করে ভালো করে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।
এ রোগের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ
Pulsatilla, Sepia, Borax, Calcaria Carb, Caulophyllum, Alumina, Kreosote, Asoka, Kali Mur, Calcarea Phos, Syphilinum, Merc Sol, Medo.
রোগীর লক্ষনের সাথে ঔষধের লক্ষন মিলিয়ে একটি ঔষধ সেবন করলে এ রোগ সম্পূর্ন আরোগ্য হয়। তবে ঔষধের মাত্রা ও শক্তি জেনে ব্যবহার করা উচিৎ।
পরামর্শ
মেয়েদের পরিমিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। প্রতিদিন আমিষ জাতীয় খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডিম, খিচুড়ি, ডাল ও ভিটামিন যুক্ত খাবার যেমন শাকসব্জি, ফলমূল বিশেষ করে টকফল এবং প্রচুর পরিমাণ পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে পুষ্টিকর খাবার মানে দামি খাবার নয় বরং সহজ প্রাপ্য ও খাদ্যগুণ সমৃদ্ধ খাবার। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা সুঁই বা এন্টিবায়োটিক ওষুধ সেবনকালে একটু বেশি পুষ্টিকর খাবার যেমন- দুধ, দৈ, ছানা, পায়েস, সেমাই ও খিচুড়ি খেতে হবে।
পরামর্শকঃ
ডাঃ অঞ্জন কুমার দাস
DHMS, Dhaka
গভঃ রেজিঃ নং- ২৪০০১
চেম্বার: অঞ্জন হোমিও ক্লিনিক, নরসিংদী
প্রভাষক: নরসিংদী হোমিওপ্যাথিক মে: কলেজ
মুঠু: 01911778155
এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অন্যদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। (অনার্স – অ্যাকাউন্টিং, দিনাজপুর সরকারি কলেজ এবং সিইও – দিনাজপুর স্কুল নামক ইউটিউব চ্যানেল)।

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিন বার্তাঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ জাহাঙ্গীর বিন সফিকুল। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

ইমেইলে পোস্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার (রাত ৯:৩৮)
  • ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৭ই সফর ১৪৪৩ হিজরি
  • ১০ই আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল)
জাতীয় হেল্প লাইন