আজ বুধবার,১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বাত রোগ কি, কেন হয় এবং প্রতিকার

বাত রোগ কি, কেন হয় এবং প্রতিকার
সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো বাত (বিভিন্ন প্রকারের বাত রোগ)  হওয়ার কারণ ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা। সবার জানা জরুরী !তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।
রোগ বিবরন : বাত ব্যাধি অনেক প্রকার দেখা যায়। তার মধ্যে বৃহৎ সন্ধি বাত, ক্ষুদ্র সন্ধি বাত, পেশী বাত, ইত্যাদি। উপদংশ বা প্রমেহ দোষ, ঘর্ম বোধ, বৃষ্টির জলে ভিজা, সেৎসেতে স্থানে বাস, ঘর্ম অবস্থায় হঠাৎ ঠান্ডা লাগা, অনিয়মিত পানাহার, আঘাত লাগা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম প্রভূতি কারনে বাত ব্যাধি দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসা
লিডম পাল (Ledum Pal) : বাতের ব্যথা নীচ থেকে উপরের দিকে পরিচালিত হয়। গাঁট ফোলা বেদনা করে। বাতের ব্যথা রাত্রে উপশম, ঠান্ডায় উপশম।
সেবন বিধি : শক্তি 30 বা 200 দিনে দুই মাত্রা। পুরাতন রোগে আরো উচ্চ শক্তি।
ক্যালকেরিয়া (Kalmia Let) : বাত বেদনা উপর দিক হইতে আরম্ভ হইয়া নিচের দিকে নামে (লিডমের বিপরীত) স্থান পরিবর্তনশীল বাতের সহিত কোন কোন রোগীতে হ্রদরোগ (বুক ধরফড়ানী) বুক দেখা যায়।
সেবন বিধি : শক্তি 3x, 6, 30 বা 200 দিনে দুই মাত্রা।
রাস টক্স (Rhus Tox) : বৃষ্টির জলে ভিজিয়া বা ভিজা স্থানে বাস করিয়া কিংবা ঠান্ডা লাগিয়া বাত বেদনা। ঠান্ডায় বৃদ্ধি চুপ করিয়া থাকিলে বৃদ্ধি নড়াচড়া ও গরমে উপশমে রাস টক্স অব্যর্থ।
সেবন বিধি : শক্তি 30 বা 200 দিনে দুই মাত্রা ।
রডোডেন্ড্রন (Rhododron) : হাতে পায়ে আঙ্গুলে বা শরীরের কোন স্থানে বাতের ব্যথা সেই ব্যথা অনেক দিন থাকে না। কিছু দিন পর আপনা আপনি ব্যথা ছাড়িয়া যায়। আবার কিছু দিন পর সেই ব্যথা পূনরায় দেখা যায় দেয়। আকাশে মেঘ ডাকিলে বিদ্যুৎ চমকাইলে কিংভা ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগালে রোগ যন্ত্রনা বৃদ্ধি পায়। গরম সেক বা তপে উপশম।
সেবন বিধি : শক্তি 30 বা 200 দিনে দুই মাত্রা ।
কলোফাইলম (Coulphyllum) : হাত বা আঙ্গুলে বাত ব্যথা গাট ফোটা আঙ্গুল নড়াইতে কষ্ট ইহাতে কলোফাইলম উপকারী ।
সেবন বিধি : শক্তি 30 বা 200 দিনে তিন বার ।
ল্যাক ক্যান (Lac Can) : স্থান পরিবর্তনশীল বাতের বেদনায় ল্যাক ক্যান উত্তম কাযকারী ঔষধ। কিছু দিন ডান দিকে আবার কিছু দিন বাম দিকে বাতের ব্যথা। ডান দিকে আক্রান্ত হইলে বাম দিকে থাকে না। আবার বাম দিক আক্রান্ত হইলে ডান দিকে থাকে না। ইহাই ল্যাক ক্যান এর প্রধান পরিচয় ।
সেবন বিধি : শক্তি 6 বা 30 দিনে দুই মাত্রা। পুরাতন রোগে আরো শক্তি।
ব্রাইওনিয়া (Bryonia Alb) : সুচ বিদ্ধবত বাতের ব্যথা। শরীরের বিভিন্ন গাটে ও কোমরে ব্যথা অধিক স্থান। পরিবর্তন শীল বাতের ব্যথায় চুপ পড়িয়া থাকে।
সেবন বিধি : শক্তি 30 বা 200 দিনে দুই বার ।
আর্টিকা ইউরেন্স (Urtica Urens) : গেটে বাতের একটি উৎকৃষ্ট ঔষধ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গাট ফুলিয়া ব্যথা নড়া চড়ায় কষ্টের বৃদ্ধি ফোলা যুক্ত গেটে বাত রোগে এই ঔষধ। ব্যবহার অনেক রোগী আরোগ্য হইয়াছে।
সেবন বিধি : শক্তি Q ৫/৬ ফোটা সামান্য গরম জল সহ তিন চার বার।
গুয়েকাম (Guacum) : হাতে কাধে কেমারে পায়ের গোড়ালী গাটের বেদনা চাটে বেদনার বৃদ্ধি আক্রান্ত স্থানে গরম সহ্য হয় না।
সেবন বিধি : শক্তি 3 বা 6 দিনে তিন বার ।
ফেরাম মেট (Ferrum Met) : বাম কাধে সন্ধি মত। বাম হাত ঘুরেইতে বা উপরে তুলিতে না পারে।
সেবন বিধি : শক্তি 200, 1m দুই মাত্রা উপকার হয়। ফেরাম মেটে উপকারী হেইলে নাক্স মস্কেটা উক্ত নিয়মে সেবন করিলে উপকার হয় ।
সেঙ্গুনেরিয়া ক্যান (Sangunaria Can): ডান কাধের মাংস পেশীর বাত ডান হাত ঘুরেইতে বা উপরের দিকে তুলিতে না পারিলে ইহা অমোঘ।
সেবন বিধি : শক্তি 200 বা 1m দুই মাত্রাই উপকার হয়। সেঙ্গুনিয়া উপকার না হইলে ম্যাগেন্নশিয়া কার্ব উক্ত নিয়েমে সেবন করিলে আরোগ্য হয়।
মেডোরিনাম (Medorrhinum) : প্রমেহ রোগ চাপা দেওয়ার ফলে যাহারা বাত ব্যাধিতে আক্রান্ত হইয়াছে এই ঔষধে তাদের পরম বন্ধু।
সেবন বিধি : শক্তি 200, 1m বা আরো উচ্চ শক্তি সকাল বিকাল দুই মাত্রা।
বাইওকেমিক চিকিৎসা
ফেরাম ফস (Ferrum Phos) : তরুন বাত আক্রান্ত স্থানে চিড়িক মারা ভ্যথা। সেই ব্যথা সঞ্চালনে রাত্রে বৃদ্ধি। জিহবায় সাদা বর্ণের প্রলেপ থাকিলে উক্ত ঔষধের সঙ্গে ক্যালি মিউর পযায়ক্রমে সেবন করিতে হয় ।
সেবন বিধি : শক্তি 6x বা 12x ২-৪ বড়ি এক মাত্রা বয়স অনুপাতে দিনে চার মাত্রা ।
ম্যাগ্নেশিয়া ফস (Magnisia Phos) : অসহ্য বাতের ব্যথা ব্যথা রাত্রে বৃদ্ধি নড়াচড়ায় বৃদ্ধি উত্তাপে উপশম ।
সেবন বিধি : শক্তি 3x বা 6x ২-৪ বড়ি বয়স অনুপাতে গরম জলসহ তিন ঘন্টা অন্তর ।
ক্যালকেরিয়া ফ্লোর ( Calcaria Flour): সন্ধি বাত , বাত আক্রান্ত স্থান স্ফিত, শক্ত প্রতথম চলিতে বদেনা বৃদ্ধি অধিকক্ষণ চলাফেরা করিলে বেদনার হ্রাসে ইহা উপকারী।
সেবন বধি: শক্তি 12x, 30x, ২-৪ বড়ি এক মাত্রা (বয়স অনুপাতে) দিনে দুই তিন বার।
পথ্য ও আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থা
বাত আক্রান্ত স্থানে বালির পুটলি গরম করিয়া সেক দিলে বেদনার উপশম হয়। রাস টক্স Q এক ড্রাম ব্রাইওনিয়া Q এক ড্রাম দুই আউন্স পরিমান মেথেলিক স্পিরিটে মিশাইয়া মালিশ করিলে উপকার হয়। জ্বর থাকিলে দুধ সাগু বার্লি দেওয়া ভাল। জ্বর না থাকিলে ভাত রুটি দেওয়া যাইতে পারে।
রোগী বিবরন : রমিজ উদ্দিন ৬২ বৎসর কাপসিয়া থানার অধিবাসী তিন বৎসর যাবৎ ডাইন পায়ে সাইটিকা বাতের ব্যথা। কষ্টদায়ক বেদনা উপর হইতে নিচের দিকে নামে অর্থাৎ কোমর হইতে পায়ের পাতার দিকে। এই যন্ত্রণা দায়ক বেদনায় রোগী খোড়াইয়া খোড়াইয়া চলে। ক্যালমিয়া 6 তিন চার ফোটা সামান্য জলসহ দিবসে তিন বার। এক সপ্তাহে সেবন করায় রোগী বেশ সুস্থ হয়ে উঠে। পড়ে 30 শক্তি কয়েক দিন সেবন করায় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হন। কিছুদিন পর রোগের পুনঃ আক্রমনের ভয়ে উক্ত ঔষধ 200 শক্তি দুই মাত্রা দেওয়া হইয়াছিল।
[বিশেষ দ্রষ্টব্য:এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিন বার্তাঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ জাহাঙ্গীর বিন সফিকুল। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

ইমেইলে পোস্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন:

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (সকাল ৭:২৮)
  • ২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২০শে রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
  • ১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
জাতীয় হেল্প লাইন