আজ বুধবার,১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

হোমিওপ্যাথির ইতিহাস

হোমিওপ্যাথির ইতিহাস জানুন – চিকিৎসা নিতে ইচ্ছা করবে

হোমিওপ্যাথির ইতিহাস


সানরাইজ৭১ এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করছি, সবাই ভালো আছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো হোমিওপ্যাথির ইতিহাস নিয়ে। তো আর কথা নয় – সরাসরি যাচ্ছি মূল আলোচনায়।

হোমিওপ্যাথি হলো একটি  নির্ভরযোগ্য ও সার্বজনীন  চিকিৎসা বিজ্ঞান। ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে বিশিষ্ট জার্মান চিকিৎসক ডাঃ ‘স্যামুয়েল হ্যানিম্যান’ এই চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

১৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই এপ্রিল জার্মানির মিশেনে স্যাকসনি নগরে হ্যানিম্যানের জন্ম হয়।এই মহিয়সীর পুরো নাম ‘ক্রিস্টিয়ান ফ্রেড্রিক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান’।

তিনি একজন বিখ্যাত এলোপ্যাথিক চিকিৎসক ছিলেন । প্রচলিত চিকিৎসা বিজ্ঞানসমূহের ইতিহাস নিয়ে যারা ব্যাপক পড়াশুনা করেছেন তারা সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করেন যে, তিনি ছিলেন পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত জন্ম নেওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসা বিজ্ঞানী।

শুধু তাই নয়, তিনি ২২ বছর বয়সে ১১ টি ভাষার ( জার্মান, গ্রীক, ল্যাটিন, ইংরেজি, ইটালিয়ান, হিব্রু, সিরিয়াক, আরবী, স্প্যানিশ, ফরাসী ও চ্যালডেইক) উপর পান্ডিত্য অর্জন করেন। হোমিওপ্যাথির ইতিহাস মূলত তাকে ঘিরেই রচিত হয়েছে।

তিনি এই ১১ টি ভাষায় সাবলীলভাবে লিখতে, পড়তে ও অনুবাদ করতে পারতেন । এ দক্ষতার জন্য তিনি অল্প সময়ে একজন সুযোগ্য অনুবাদক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন ।

তিনি তাঁর কর্ম জীবনে ১৮১০ খ্রিষ্টাব্দে হোমিপ্যাথির সংবিধান ‘অর্গানন অব মেডিসিন’ প্রকাশ করেন । ১৮১৯, ১৮২৯ ও ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে এই বইটির যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ।

ষষ্ঠ সংস্করণের পান্ডুলিপি প্রস্তুত হয় ১৮৪২ খ্রিষ্টাব্দে । এছাড়াও ১৮১১ খ্রিষ্টাব্দে  ‘মেটেরিয়া মেডিকা ‍পিউরা’ ছয় খন্ডে প্রকাশিত হয় । ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে ‘ ক্রনিক ডিজিজ ইটস পিকুইলিয়ার নেচার এন্ড ট্রিটমেন্ট’ নামক গ্রন্থসহ উল্লেখযোগ্য  ১৬টি বৃহৎ গ্রন্থ রচনা করেন ।

মহাত্মা হ্যানিম্যানের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার পৃথিবীকে পাল্টে দিয়েছে। দীর্ঘসময় ধরে হ্যানিম্যান চিকিৎসা বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা এবং ইতিহাস পর্যালোচনা করার পর তিনি হোমিওপ্যাথি আবিষ্কার করেন ।

তিনি উপলব্ধি করেন যে, প্রচলিত এলোপ্যাথি চিকিৎসায় রোগ কেবল সাময়িক উপশম হয় । বিসদৃশ নীতিতে রোগের প্রকৃত নিরাময় সম্ভব হয় না । হোমিওপ্যাথির ইতিহাসের এটিই মূল কথা।

এই চিকিৎসা প্রথার সাফল্যের সাথে কিছু বিষময় ফলও অনতিবিলম্বে দেখা দেয়। আজ যে ওষুধ খুবই কার্যকরী বলে ঘোষিত হলো দুদিন যেতে না যেতেই তা আবার মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক বলে পরিত্যক্ত হয় ।

এক রোগ চাপা পড়ে অন্য রোগ সৃষ্টি হয় এবং এ ধরনের চিকিৎসার কুফলে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে । ফলে অনেক বিবেকবান খ্যাতিমান চিকিৎসক তৎকালীন চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ তথা বিরক্ত হয়ে ওঠেন।

এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি পরিত্যাগঃ

মহাত্মা হ্যানিম্যান প্রচলিত এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি পরিত্যাগ করে রোগাক্রান্ত মানুষকে বিনা কষ্টে ও স্বল্প সময়ে স্থায়ীভাবে রোগ নির্মূল তথা প্রাকৃতিক আরোগ্য সাধন পদ্ধতি অনুসন্ধানে নিজেকে উৎসর্গ করেন।

দীর্ঘদিন গবেষণার পর অবশেষে ১৭৯৬ সালে হ্যানিম্যান উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করলেন ‘রোগারোগ্যের শাশ্বত পথের সন্ধান আমি পেয়েছি। হোমিওপ্যাথির ইতিহাসের মূল স্লোগান হিসেবে এটি অভিভূত।

এলোপ্যাথি চিকিৎসার অন্ধকার দিক সম্পর্কে পড়তে এখানে ক্লিক করুনঃ

সেই পথ হল প্রকৃতির সঙ্গে সমঝোতার পথ। প্রকৃতির সঙ্গে বিরুদ্ধাচারণ করে নির্মল আরোগ্য বিধান সম্ভব নয়। আদর্শ আরোগ্য নিমিত্ত প্রকৃতি নির্দিষ্ট একটি মাত্র পথ আছে তা হলো- যে ভেষজ সুস্থ দেহে যে ধরনের রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম সেই ধরনের রোগ সেই ভেষজ দ্বারাই আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।’

হ্যানিম্যান এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির নাম দেন ‘হোমিওপ্যাথি’ অর্থাৎ ‘সদৃশ্য আরোগ্য বিধান পদ্ধতি’ যা বিশ্বে আজ খুবই জনপ্রিয়।

মহাত্মা হ্যানিম্যানের জীবনী তথা হোমিওপ্যাথির ইতিহাস বেশ কয়েকটি পর্বে আমরা প্রকাশ করবো। এখানে কেবল সামান্য একটু উল্লেখ করা হলো। হোমিওপ্যাথির ইতিহাস ছোট কোনো বিষয় নয়। এগুলো পুরোপুরি প্রকাশ করতে আমাদের একটু সময় লাগবে।

এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেটাকে আপনারা মহাত্মা হ্যানিম্যানের জীবনী/হোমিওপ্যাথির ইতিহাস এর কেবল ‘ভূমিকা’ বলতে পারেন। নিয়মিত হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

এই পোস্টটি আপনার ভালো লেগে থাকলে এবং প্রয়োজনীয় মনে হলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে আরও পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুনঃ

হোমিওপ্যাথি নিয়ে উইকিপিডিয়ায় পড়ুনঃ

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিন বার্তাঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ জাহাঙ্গীর বিন সফিকুল। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

ইমেইলে পোস্ট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন:

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (সকাল ৬:৪৯)
  • ২৭শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
  • ২০শে রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
  • ১১ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)
জাতীয় হেল্প লাইন