আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

www.sunrise71.com

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বিষয়ক ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর – হয়তো জানা হয়নি

 গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

 

১। খ্যাতনামা কোন কোন ব্যক্তিরা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন?

উত্তরঃ লেখক চার্লিস ডিকেন্স, উইলিয়াম থ্যাকারে, জর্জ বার্নাড’শ, শিল্পী রেনয়ের, ভ্যান গগ, মনেট এবং গজিন, কম্পোজার বিটোফেন, চপিন ও স্ক্রম্যান। মনে রাখা জরুরী, এরা প্রত্যেকেই পৃথিবীতে খুব নামকরা ব্যক্তি ছিলেন।

২। ভারতে হোমিওপ্যাথির বর্তমান অবস্থা কেমন?

উত্তরঃ ভারতে হোমিওপ্যাথির প্রবেশ ঘটে ১৮৩৯ সালে আজ যেখানে ৪,০০,০০০ (চার লক্ষ) রেজিষ্ট্রেশনপ্রাপ্ত হোমিওপ্যাথি ডাক্তার রয়েছে। প্রতি বছর ভারতে ১৩,০০০ (তের হাজার) নতুন হোমিও ডাক্তার যুক্ত হচ্ছেন। মহাত্মা গান্ধী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হোমিওপ্যাথির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।

৩। ইউরোপের মোট জনসংখ্যার কত অংশ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেন?

উত্তরঃ প্রায় ১০০ মিলিয়ন এর বেশি ইউরোপীয়ান বর্তমানে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন যা মোট জনসংখ্যার ২৯%। ৬৫% ইউরোপিয়ান বলেছেন যে, তারা অতীতে কখনো না কখনো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার করেছেন এবং তার ৪৫% বলেছেন যে তারা এ চিকিৎসায় খুবই সন্তুষ্ট এবং প্রয়োজন হলে পুণরায় হোমিও চিকিৎসা নেবেন।

৪। জার্মানীতে কত শতাংশ চিকিৎসক হোমিওপ্যাথির সাহায্যে রোগীকে আরোগ্য করেন?

উত্তরঃ জার্মানীতে ২০% চিকিৎসক হোমিওপ্যাথির সাহায্যে রোগীকে আরোগ্য করেন। এটা দিনের দিন বাড়ছে।

৫। হোমিও চিকিৎসা ব্যবস্থায় বাংলাদেশ এর অবস্থা কোন পর্যায়ে?

উত্তরঃ ২০১৪ সালে বিবিসি বাংলার জরীপে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪০% হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহন করেন।

৬। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনও পিছিয়ে কেন?

উত্তরঃ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ২০০ বছরের সফলতাকে আধুনিক মিডিয়া প্রচার করতে অনিচ্ছুক। আর এর পিছনের মদদদাতা’রা হলো মাল্টিবিলিয়ন ডলার ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীগুলো। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ যে কাজ করে এই সত্যটি জনসমক্ষে প্রকাশ হোক এটা ফামাসিউটিক্যাল কোম্পানীগুলো কখনও চায় না। বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্রটিও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু তবুও হোমিওপ্যাথি তার নিজ গুণে মানুষের অন্তরে দিনের দিন জায়গা করে নিচ্ছে।

৭। হোমিও ওষুধ গ্লোবিউলসের সাথে সেবনে  ভালো কাজ করে নাকি ৫ ফোঁটা সরাসরি সেবনে ভালো কাজ করে?

উত্তরঃ হোমিওপ্যাথি ঔষধ খাওয়ার নিয়ম হলো গ্লোবিউলসের মাধ্যমে; তবে উচ্চ মাত্রায় খেতে হলে ডিস্টিল ওয়াটার বানিয়ে খেতে হবে। এতে করে ওষুধ এর মাত্রা ঠিক থাকবে।

৮। ইজি প্রেগন্যান্সির জন্য কোন ধরনের হোমিও ওষুধ ভালো কাজ করে?

উত্তরঃ ইজি প্রেগন্যান্সির জন্য হোমিওপ্যাথিতে অনেক ওষুধ রয়েছে। অ্যালোপ্যাথির মতো এগুলো সরাসরি সিলেকশান হয় না। আপনার শারিরীক লক্ষণের উপর এটা নির্ভর করে আপনি কোন ওষুধটি সেবন করবেন। অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৯। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ‘কস্টিকাম’ এর সাথে শত্রুভাবাপন্ন রয়েছে এমন আরেকটি ওষুধের নাম কি?

উত্তরঃ ফসফরাস।

১০। সোরা দোষ কি?

উত্তরঃ সোরা হচ্ছে মানুষের ইচ্ছার বিবর্তন, পাপের চূড়ান্ত ফল। এই প্রকাশ যা মানুষের মন্দ ইচ্ছার ফলে গঠিত হয় – তাই সোরা আর এটাই সোরার জীবন।

১১। হোমিওপ্যাথিক উচ্চ শক্তির ওষুধ প্রসঙ্গে জানতে চাই।

উত্তরঃ উচ্চ শক্তির হোমিওপ্যাথিক ওষুধের দুদিকেই ধার। এগুলো যেরুপ ভীষণ অনিষ্ট ঘটাতে পারে, সেরুপ প্রভূত মঙ্গলেরও বিধান করে।

১২। যৌন সংক্রমিত রোগে হোমিওপ্যাথি ওষুধ কতটা কার্যকর?

উত্তরঃ খুবই কার্যকর। কিন্তু অবশ্যই আপনাকে একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হবে।

১৩। মাসিক ঋতুস্রাবের সাথে স্তন ক্যান্সারের কোন সম্পর্ক আছে কি?

উত্তরঃ জি, মাসিক ঋতুস্রাবের সাথে স্তন ক্যান্সারের সম্পর্ক রয়েছে। অল্প বয়সে বিশেষ করে ১২ বছরের পূর্বে মাসিক স্রাব শুরু হলে সে সব মহিলার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। আর যে সব মহিলার রজঃ নিবৃত্তি (মাসিক বন্ধ হওয়া) দেরিতে অর্থাৎ ৫৫ বছরের পর ঘটে তাদের ক্ষেত্রেও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। এরকমটা ঘটলে অবশ্যই হোমিওপ্যাথি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান।

১৪। হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবহারে লিভারের কোনো ক্ষতি হয়কি?

উত্তরঃ হোমিওপ্যাথি ওষুধ সেবনে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হবার কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হোমিওপ্যাথি ওষুধ শক্তিকৃত এবং সূক্ষ্মতম মাত্রায় ব্যবহার করা হয়। তাই এর দ্বারা লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা নেই। তবে মাদার টিংচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

১৫। ডায়রিয়া রোগীকে কখন চিকিৎসকের নিকট নিতে হবে?

উত্তরঃ ডায়রিয়া যদি ৪ দিন স্থায়ী হয় এবং ভাল না হয় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের নিকট নিতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যদি ১ দিন স্থায়ী থাকে। এখানে মনে রাখবেন, প্রথমেই হোমিওপ্যাথি ওষুধ দিলে খুব ভাল কাজ করে।

১৬। করোনা প্রতিরোধে বর্তমানে হোমিওপ্যাথিক কোন ওষুধ সেবন করবো?

উত্তরঃ করোনা প্রতিরোধে Arsenic Album-30 পরপর তিনদিন খালি পেটে সেবন করুন। এই ওষুধটি শরীরের মধ্যে ইমিউনিটি (প্রতিরোধ ব্যবস্থা) বৃদ্ধি করে করোনা ভাইরাসকে প্রতিহত করতে সাহায্য করে।

১৭। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ রাখার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাই।

উত্তরঃ হোমিওপ্যাথিক ওষুধ রক্ষার বিধি হলো- যেখানে ওষুধ রাখা হবে সেখানে যেন রোদ, ধূলা, ধুম বা কোনো উগ্র গন্ধ না থাকে। সেই স্থানটি যেন বেশ শুষ্ক, খটখটে, পরিষ্কার ও আলোযুক্ত হয়। অন্যান্য ওষুধের সাথে কখনও ক্যাম্ফর বা কর্পূর বা কোনো উগ্র গন্ধযুক্ত ওষুধ রাখা উচিত নয়।

১৮। একজন ডাক্তার কি কোন কারণে রোগী পরিত্যাগ করতে পারেন?

উত্তরঃ রোগীর পক্ষে যেসব নিয়ম পালন করা চিকিৎসক সঙ্গত বোধ করেন, তিনি রোগীকে তা পালন করতে বাধ্য করবেন, অপারগ হলে অবিলম্বে সেই রোগীকে পরিত্যাগ করবেন। এতে আপাত কিছু ক্ষতি হলেও চিকিৎসকের যশ অক্ষুণ্য থাকবে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসক লাভবানই হবেন।

১৯। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রয়োগের বিরতিকাল কত?

উত্তরঃ হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তরুণ রোগের ক্ষেত্রে ১, ২, ৩ বা ৪ ঘন্টা অন্তর প্রয়োগ করা হয়। রোগ খুব সাংঘাতিক হলে যেমন কলেরায় ১০ বা ১৫ মিনিট অন্তর ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।

২০। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রয়োগের সময় সম্পর্কে জানতে চাই।

উত্তরঃ প্রাচীন রোগে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খালি পেটে প্রয়োগ করা উচিত। যেক্ষেত্রে অবিলম্বে ওষুধ প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয় না, সেক্ষেত্রে আহারের এক ঘন্টা কি দেড় ঘন্টা পূর্বে ওষুধ দেয়া উচিত। কিন্তু নিম্ন শক্তির আর্সেনিক ও ফেরাম মেট (লৌহ), ক্র্যাটিগাস ইত্যাদি আহারের পরেই প্রয়োগ করা উচিত।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল হোমিওপ্যাথি সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (রাত ১১:০১)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)