আজ মঙ্গলবার,৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

www.sunrise71.com

গর্ভকাল , প্রসবকাল ও প্রসবের পরবর্তী কয়েকটি রোগের চিকিৎসা – পর্ব ০১

গর্ভকাল , প্রসবকাল ও প্রসবের পরবর্তী কয়েকটি রোগের চিকিৎসা


 

সানরাইজ৭১ এ আপনাদের স্বাগতম। আজ আমরা আলোচনা করবো গর্ভকাল, প্রসবকাল ও প্রসবের পরবর্তী কয়েকটি রোগের লক্ষণ ও সেগুলোর চিকিৎসা নিয়ে। আর্টিকেলটি অনেক বড় হওয়ায় এটাকে তিনভাগে ভাগ করে নিয়েছি।

তন্মধ্যে এটি হলো প্রথম পর্ব। একটু সময় নিয়ে পুরো আর্টিকেলটি পড়লে অনেক কিছুরই অভিজ্ঞতা পাবেন। তো চলুন শুরু করি।


 

সাধারন আলোচনাঃ

সঙ্গমের ফলে গর্ভসঞ্চার হয়ে থাকে। পুং-শুক্রকীট স্ত্রী-ডিম্বকোষের সঙ্গে মিলিত হলে জরায়ুমধ্যে গর্ভসঞ্চার হয়। এ অবস্থায় ঋতু বন্ধ হয়ে যায়, খাদ্যে অরুচি দেখা দেয়, গা বমি-বমি করে।

গর্ভসঞ্চার হলে অর্থাৎ ঋতু বন্ধ হলেই তলপেট ও স্তন ক্রমশঃ বড় হতে থাকে, স্তনের বোঁটার চারপাশে কালো দাগ পড়ে, স্তনে পাতলা দুধ আসে সহ প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয়। গর্ভ চার-পাঁচ মাসের হলে পেটে ভ্রুণের নড়াচড়া টের পাওয়া যায়। তলপেটে কান রাখলে ভ্রুণের হৃৎস্পন্দন অনুভব করা যায়।

ভ্রুণ গর্ভে থাকে মোট ২৮০ দিন। গর্ভের শুরু থেকে প্রসবের দিন পর্যন্ত সময়কে ‘গর্ভাবস্থা’ বলা হয়। গর্ভাবস্থায় যে-সব রোগ হয় চিকিৎসা দ্বারা সেসব সারিয়ে ফেলা দরকার; নতুবা গর্ভিনী ও শিশু উভয়ের পক্ষেই ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিষয়টিকে একেবারে অবহেলা করলে অনেক সময় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েই যায়।

এই অবস্থার রোগসমুহকে ‘রোগ’ না বলে ‘উপসর্গ’ বলাই ভালো। এগুলো হলো গর্ভাবস্থা চলাকালীন বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া – আলাদা কোনো রোগ নয়।

কোষ্ঠবদ্ধতা, উদরাময় প্রভৃতি রোগকেও এক্ষেত্রে ‘রোগ’ হিসাবে না ধরে ‘উপসর্গ’ হিসাবেই ধরা উচিত – কেননা, গর্ভসঞ্চারের জন্যই এসব হয়ে থাকে। এই সব উপসর্গের চিকিৎসা – প্রণালী এখানে বলা হচ্ছে। পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে অনেক কিছুই জানতে পারবেন।


 

লক্ষণ ও চিকিৎসাঃ

বমি বা বমি-বমি ভাবঃ পায়খানা শক্ত হয়, হিক্কা উঠে, ঢেকুর উঠে, মুখ দিয়ে পানি উঠে, পিত্ত অম্ল বা শ্লেষ্মা বমি হয়। বমি-বমি ভাব প্রভৃতি লক্ষণে- নাক্সভমিকা ৬।

যদি বমি বেশি হয় বা বার-বার হয় তাহলে- ইপিকাক ৬।

খাওয়ার পরে যদি বমি হয়- আর্সেনিক ৩০ বা পালসেটিলা ৬।

আক্ষেপ ও বমি একসঙ্গে থাকলে- সিরিয়াস অক্স ৬।

গর্ভাবস্থায় যেকোন ধরনের বমিতে বা বমি-বমি ভাব দেখা দিলে দেওয়া চলে- সিম্ফরি কার্পাস বেসিমোটা ৩x-২০০।

 

মুখ দিয়ে পানি উঠাঃ অম্ল ঢেকুরসহ মুখ দিয়ে পানি উঠলে- কার্বোভেজ ৩০ বা ক্যালক্যারিয়া কার্ব ৬।

কোষ্ঠবদ্ধতা, বুক জ্বালা, অরুচি ও মুখ দিয়ে পানি উঠা লক্ষণে- নাক্সভমিকা ৩০।

যেকোন ধরনের মুখ দিয়ে পানি উঠায় দেয়া যায়- মারকিউরিয়াস ৬।

 

মাথা ঘোরা ও মাথা ধরাঃ গর্ভাবস্থায় অনেকেরই মাথা ঘোরে বা মাথা ধরে। এই উপসর্গের সঙ্গে সাধারনত আরও কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। ঠিকমতো উপসর্গগুলো মিলিয়ে ওষুধ দেওয়া দরকার। কানের ভেতর ভোঁ-ভোঁ শব্দ, চোখ-মুখ লাল ও তৎসহ মাথা ধরলে- বেলেডোনা ৬।

কপালের বামদিক, ডানদিক বা উভয়দিক ধরলে- পালসেটিলা ৬।

মাথায় থেকে থেকে চিরিক মারা বেদনা-যন্ত্রণায়- নাক্সভমিকা ৩০।

চোখের কোণে কালো দাগ পড়ে এবং সেই সঙ্গে মাথা ঘোরে লক্ষণে- অ্যাকোনাইট ন্যাপ ৬।

 

বুক জ্বালাঃ গর্ভাবস্থায় অম্লরোগের জন্যই সাধারনত বুক জ্বালা করে, এরুপ লক্ষণে- ক্যালক্যারিয়া কার্ব ৬।

এই অবস্থায় যেকোন কারণে বুক জ্বালা করলে দেওয়া চলে- ক্যাপসিকাম ৬ বা পালসেটিলা ৬।

 

পেট কনকনানিঃ যেকোন ধরনের পেট কনকনানিতে দেওয়া চলে- নাক্সভমিকা ৬ বা ক্যামোমিলা ১। মনে রাখতে হবে, মাত্র ১ মাত্রা সেব্য।

 

উদরাময়ঃ পেট ব্যথা ও তার সঙ্গে উদরাময়ে- নাক্সভমিকা ৬ বা পালসেটিলা ৬।

ব্যথা-বেদনাহীন উদরাময়ে- চায়না ৬।

উদরাময় সহ আম দৃষ্ট হলে- মারকিউরিয়াস ৬।

পেট জ্বালা, তৃষ্ণা ও সেই সঙ্গে উদরাময়ে- আর্সেনিক ৬।

 

কোষ্ঠবদ্ধতাঃ পায়খানা এতো কষে যায় যে, কিছুতেই মল বের হতে চায় না, বমি-বমি ভাব থাকে, অতিকষ্টে সামান্য শক্ত মল বের হয় প্রভৃতি লক্ষণে- নাক্সভমিকা ৬।

যেকোনো ধরনের কোষ্ঠবদ্ধতায়- কলিনসোনিয়া ৩x।

 

খিল ধরাঃ গর্ভাবস্থায় বেশির ভাগ সময় খিল ধরে পায়ে ও উরুতে। এ অবস্থায় খাওয়ানো দরকার- ক্যামোমিলা ৬।

পেট ফাঁপা ও তার সঙ্গে খিল ধরা লক্ষণে- লাইকোপোডিয়াম ৩০।


আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, ‍সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ১:৫৭)
  • ২৪শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৮ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৯ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)