আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

www.sunrise71.com

স্তনের কয়েকটি রোগ ও হোমিওপ্যাথিতে এগুলোর চিকিৎসা

স্তনের রোগ ও চিকিৎসা


নারী দেহে স্তন হলো সৌন্দর্য্যের প্রতীক। নারী দেহের জন্য এই স্তন শুধু সৌন্দর্য্যের প্রতীকই নয় – বরং এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গও বটে।

কারণ, সন্তান তো মায়ের দুধ খেয়েই বড় হয়। আর সন্তানের জন্য মায়ের বুকের দুধের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। এই স্তনেও নানারকম রোগ হয়। অনেক নারী-ই এই বিষয়গুলোকে ফলোআপ করেন না।

এর ফলে পরবর্তীতে স্বাভাবিক থেকে মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায়। হোমিওপ্যাথিতে স্তনের রোগের রয়েছে উত্তম চিকিৎসা। লক্ষণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চিকিৎসা করলে প্রায় স্তন সংক্রান্ত প্রত্যেকটি রোগই ভালো হয়।

আজ সানরাইজ৭১ এর এই আর্টিকেলে স্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ ও তার চিকিৎসা নিয়ে বিবরণ দেয়া হলো। পুরুষরা পরোক্ষভাবে উপকৃত হলেও নারীরা প্রত্যক্ষ ভাবে উপকার পাবেন আশা করছি। তো চলুন শুরু করি।


 

সাধারন আলোচনাঃ 

স্ত্রীরোগের মধ্যে স্তনের রোগ অন্যতম। স্তনে ব্যথা হয়, বেদনা থাকে, আর হয় ঠুনকো রোগ, দুধ কম বা বেশি, স্তনের বোটায় ঘা ও যন্ত্রণা, স্তনে ফোঁড়া প্রভৃতি রোগ হয়ে থাকে।

এসব রোগ হলে প্রসূতির কষ্ট তো হয়ই, সেই সঙ্গে শিশুটিরও কষ্ট কম হয় না। কষ্ট-জনিত কারণে মা শিশুকে ঠিকমত দুধ খাওয়াতে পারে না, শিশুকে নির্ভর করতে হয় অন্য দুধের উপর।

যে মাতৃদুগ্ধ শিশুর বাঁচার প্রধান অবলম্বন তা থেকে সে বঞ্চিত হয়। এ রোগ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করিয়ে আরোগ্য করানো দরকার, নতুবা শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হয় তেমনি হয় মায়ের কষ্ট ও শারিরীক যন্ত্রণা।


 

স্তনে দুধ কমঃ সাধারনত প্রসবের পর ২০ ঘন্টার মধ্যে স্তনের দুধ আসে। তা যদি না হয় বুঝতে হবে কিছু একটা গোলমাল ঘটেছে। এ অবস্থায় যে ওষুধটি খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যাবে তা হলো- অ্যাগ্নাস ক্যাক্টাস ৩x।

মনমরা হবার হবার কারণে দুধ কম হলে- পালসেটিলা ৬।

শোকের জন্য দুধ কম হলে- ইগ্নেসিয়া ৬।

ভয়ের জন্য দুধ কম হলে- অ্যাকোনাইট ন্যাপ ৩।

রাগের জন্য দুধ কম হলে- ক্যামোমিলা ৬।

হঠাৎ দুধ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে- অ্যাসফিটিডা ৩।

 

স্তনে বেশি দুধঃ স্তনে দুধ এতো বেশি হয় যে শিশু খেতে পারে না, মুখ দিয়ে টানতে অসুবিধা বোধ করে। এ অবস্থায় মসুর ডাল বেটে স্তনের উপর মোটা করে প্রলেপ দিলে রাখলে স্তনের দুধ কমে যায়। দুধ বেশি হলে রোগিনীকে খাওয়ানো দরকার- পালসেটিলা ৩ বা নেট্রাম সাল্ফ ১২x চূর্ণ।

 

স্তনে আবঃ আবটা শক্ত নাকি নরম তা আগে দেখে নিতে হবে। যদি খুব শক্ত হয় তাহলে খাওয়ানো দরকার- ক্যালক্যারিয়া ফ্লোরিকা ৩।

সাধারন আবে- থুজা ৩০।

সেই সঙ্গে বাইরে প্রলেপ দিতে হবে। প্রলেপের ওষুধ- থুজা Q।

আর যদি পুরনো হয়- ফাইটোলক্কা ৩x।

এই সঙ্গে বাইরে ওষুধ মিশিয়ে পানি পট্টি দেওয়া দরকার। ওষুধ- ফাইটোলক্কা Q। সামান্য পানির সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে পানি পট্টি দিতে হবে।

 

স্তনে ফোঁড়াঃ শরীরের যেকোনো স্থানে ফোঁড়া হতে পারে। স্তনেও ফোঁড়া হয়। ফোঁড়া হবার আগে স্তন শক্ত, লাল ও বেদনাযুক্ত হয়। তারপর সামান্য ফুলে ওঠে। পরে ঐ ফোলা স্থানটাই ফোঁড়ার আকার নেয়। যথা নিয়মে ফোঁড়া পাকে, ফাটে ও পুঁজ-রক্ত বের হয়।

প্রথম অবস্থায় অর্থাৎ স্তন শক্ত, লাল ও বেদনাযুক্ত হলে- বেলেডোনা ৩x।

ফোঁড়ায় পুঁজ জন্মালে- হিপার সালফার ৬।

ফোঁড়ায় যদি নালী ঘা দেখা দেয় তবে দিতে হবে- সিলিকা ৩০।

 

স্তনে ব্যথা ও বেদনাঃ ব্যথা ও বেদনা এক জিনিস নয়। ব্যথা হলে আঙুল বা কিছু ঠেকালে লাগে, বেদনায় সব সময়ই টন-টন করে। ঋতুর আগে স্তনে বেদনা হলে- কোনায়াম ৬।

বাম স্তনে বেদনা হলে- সিমিসিফিউগা ৩x।

ডান স্তনে বেদনা হলে- স্যাঙ্গুইনেরিয়া ৩x।

স্তন ফুলে উঠে বেদনায়-ব্রায়োনিয়া ৩।

স্তনের বোঁটার আগা থেকে কাঁধ পর্যন্ত বেদনায়- ক্লোটোম টিগ্লিয়াম ৩।

সন্তান স্তন টানলে ব্যথা অনুভূত হলে- ফিলপ্যানড্রিফম ৩x।

স্তনে গরম পানির সেঁক দিলে রোগিনী কিছুটা আরাম বোধ করে।

 

স্তন বড় হয়ে যাওয়াঃ অনেক সময় নারীর স্তন বড় হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় যন্ত্রণা হলে- ব্রায়োনিয়া ৩ বা বেলেডোনা ৩x।

যদি শূল বেদনার মতো অনুভূত হয় তাহলে দিতে হবে- কোনায়াম ৩।

 

ঠুনকো রোগঃ স্তন লাল হয়, জ্বালা করে, ব্যথা হয়, পুঁজ জমে ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। লক্ষন দেখে ওষুধ দেওয়া উচিত। জ্বর, শীত, স্তনে ব্যথা প্রভৃতি লক্ষণে- অ্যাকোনাইট ন্যাপ ৩।

স্তন লাল হয় ও জ্বালা করে লক্ষণে- বেলেডোনা ৬ বা ব্রায়োনিয়া ৬।

স্তনে পুঁজ হবার লক্ষণ দেখা দিলে- মার্ক সল ৬।

স্তন যদি শক্ত হয়ে ওঠে ও পুঁজ হবার লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে দিতে হবে- ফাইটোলক্কা ৬।

স্তনে পুঁজ হয়েছে বুঝলে, টন-টন করতে থাকলে- হিপার সাল্ফ ৬।

 

স্তনের বোটায় ঘাঁঃ ঘা হলে অল্প বিস্তর প্রদাহ হয়ে থাকে। আঘাত-জনিত কারণে এ রকম হলে- আর্নিকা ৩। একই সঙ্গে পানির সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে প্রলেপ দিলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। প্রলেপের ওষুধ- আর্নিকা Q।

স্তনের বোঁটায় ঘা হলে ও যন্ত্রণা হতে থাকলে- হাইড্রাস্ট্রিস ৩। একই সঙ্গে পানির সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে স্তনে লাগালে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। লাগাবার ওষুধ- হাইড্রাস্ট্রিস Q। এইখানে মনে রাখতে হবে যে, ৮ গুন পানির সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে ঘায়ের উপর ও চারপাশে লাগাতে হবে।

 

স্তন কঠিন বা শক্তঃ স্তন কঠিন হবার প্রধান কারণ দুধ জমে যাওয়া। সন্তান বেশিক্ষণ দুধ না খেলে এ রকম হয়। এ অবস্থায় প্রদাহ হয় ও টন-টন করতে থাকে। প্রদাহ হলে ও টন-টন করলে- ব্রায়োনিয়া ৬।

পাথরের মতো শক্ত হয়ে উঠলে- কোনায়াম ৬।


আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করলাম। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন। নতুন কোনো স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে হাজির হবো অন্য দিন। সবাই সুস্থ্য, ‍সুন্দর ও ভালো থাকুন। নিজের প্রতি যত্নবান হউন এবং সাবধানে থাকুন।

এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লাগে এবং প্রয়োজনীয় মনে হয় তবে অনুগ্রহ করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যেন।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল স্বাস্থ্য সেবা সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগিতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (দুপুর ১২:৩৭)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)