আজ রবিবার,৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

Aloe Socotrina Tree

এলো সকোট্রিনা (Aloe Socotrina) – চলুন জেনে নিই বিস্তারিত

এলো সকোট্রিনা (Aloe Socotrina)

[মুসব্বর (এটা গাছের আঠা)]

 

যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ঃ

লিভার, তলপেট, মলদ্বারে প্রধান ক্রিয়া, সকালে উদরাময়, আমাশয়, কোষ্ঠকাঠিন্য, যক্ষা, অর্শ, শিরঃপীড়া, সরলান্ত্রের প্রদাহ, পুরাতন প্রদাহ, রক্তস্রাব, গুল্মবায়ু, গুহ্যদ্বার চ্যুতি, প্রস্টেট পীড়া, কাশি, পাকাশয়, ও অন্ত্রেই এটার প্রধান ক্রিয়া, কোমরের ব্যথা, যকৃতের ডান দিকে ব্যথা, মাথা ব্যথা।

 

মানসিকতা / কোন ধাতুর লোকঃ

মানসিক পরিশ্রমে কাতর। কতকগুলো লক্ষণের মধ্যে দেখা যায়, ‘রোগী মনে করে বা জানে যে সে এক সপ্তাহের মধ্যেই মরবে’ জীবন দূর্বিষহ।

রোগে ভুগে ভুগে খিটমিটে স্বভাব হয়। আলসেমী স্বভাব, নড়তে চায় না, ঠোঁট বেশ লাল, শুষ্ক ও ফাঁটা। গায়ের চামড়া সর্বদাই গরম ও শুষ্ক, রাতে খোলা গায়ে থাকতে চায়। রোগী ‘সব লোককে ঘৃণা করে’ প্রত্যেককেই তাড়িয়ে দেয়।

এলোর কথা স্মরণ হলেই, মলদ্বার দূর্বল এবং উদর সংক্রান্ত বাহ্যের কথা স্মরণ করতে হবে। তরল হোক বা শক্তই হোক, মলত্যাগের বেগ সহ্য করতে পারে না। মনে রাখতে হবে – ‘এলো, আর গেল’। অসাড়ে মলত্যাগ, খুব গরম বায়ু নিঃসরণই বিশেষত্ব।

রোগীর মলদ্বার এত দূর্বল, অদ্ভুত লক্ষন এই যে, আলাদা করে মলমুত্র ত্যাগ করতে পারে না। রোগীর যন্ত্রণাটি পেটে, জীবন দূর্বিষহ। পরিশ্রম করলে অত্যন্ত ক্লান্তি হয়।

সকালে শয্যা ত্যাগ করেই পায়খানায় (ওয়াশরুমে) ছুটে যায়। উদরাময়ে ‘এলো সকোট্রিনা’ একটি মূল্যবান ওষুধ। অতিরিক্ত বায়ু যদি নিঃসরণ হয় সেক্ষেত্রে – সোরি, সালফার, রুমেক্স।

উত্তপ্ত বায়ু নিঃসরণই ‘এালোর’ বৈশিষ্ট্য। মল বেগ আসলে কেবল মাত্র গরম বাতাস বের হয়। ভালো খাওয়া সহ্য করতে পারে না, পাকস্থলী ভারী বোধ হয়। রোগীর মলদ্বার এতো দূর্বল যে, আলাদা করে মুত্র ত্যাগ করতে পারে না।

মলমুত্র ত্যাগ একই সঙ্গে করে ফেলে – বিলম্ব সহ্য হয় না। অতিরিক্ত বায়ু নিঃসরণের মতো শ্লেষ্মা নির্গমণও ‘এলোর’ আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। পেট ফাঁপা, গড় গড় করে এবং পেটে দুর্বলতা অনুভব করে।

এলোর আরেকটি বড় লক্ষণ হলো – ‘পাতলা পিশুমুক্ত মল জরায়ু ঠেলে বের হওয়ার অনুভূতি হয়’। উদরাময়ে মলদ্বারের পেশি অক্ষমতা একটি মূল্যবান লক্ষণ। অস্বাভাবিক ক্ষুধা, ভোজন বিলাসীদের কোষ্ঠবদ্ধতায় ৪/৫ দিন পর্যন্ত বেগ আসে না।

শিশুর ক্ষুদ্র আকারের, শক্ত ও মার্বেলের ন্যায় দলাদলা আম জড়িত মল এবং গোল গোল মল হাটবার সময় অজ্ঞাত সারে নির্গত হয়।

এই রোগীর মলত্যাগের সময় কোনো অনুভূতিই থাকে না। অর্শ রোগের এটি একটি প্রকৃষ্ঠ ওষুধ। আঙ্গুর থোকার মতো অর্শের বলি বের হয়ে পড়ে। পর্যায়ক্রমে উদরাময় ও কোষ্ঠবদ্ধতা থাকে। রক্ত পড়ে এবং খুব চুলকায় ও জ্বালা করে।

পডোফাইলামের ক্ষেত্রে পায়খানার সঙ্গে সঙ্গে পেটের বায়ু কম হয় সাময়িকভাবে, একটু পরেই বায়ু পূর্ণ হয় এবং দূর্গন্ধ যুক্ত মল। চায়না’র ক্ষেত্রে অজীর্ণ মল এবং এলোর ক্ষেত্রে মলদ্বারে অক্ষমতা মনে রাখতে হবে।

মলত্যাগের বেগ এত অধিক যে রোগী শয্যা ত্যাগ করবার অবসর পায় না। নাভির চারদিকে খিঁচুনির ন্যায় ব্যথা বিশেষতঃ এবং মাঝে মাঝে সারা পেটে ব্যথা।

পূর্ণতা বায়ু ও গড়গড় শব্দ এত বেশি যে, ঘরের মধ্যে সবাই শুনতে পায়। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ। খাওয়ার পরেই পেট ভার হলেই ঢেকুড় উঠে (লাইকো) এবং এক গ্রাস খেতেই অথবা কখনো কখনো পানি খেলেও পায়খানায় ছুটে যেতে হয়।

রোগী হতাশ হয়ে পড়ে উদরের অবস্থা সম্পর্কে – এটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। অতিরিক্ত শ্লেষ্মা নির্গমণও এলোর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। একটি মাত্র বিশেষত্বঃ কোমরের ও মাথা ব্যথা পর্যায়ক্রমে হয়। ব্যথার জন্য বেঁকে বেঁকে কোঁকন হয়ে বসে থাকে।

 

কয়েকটি ওষুধের পার্থক্যঃ

আর্জেন্ট নাইট – মলত্যাগ কালে অতিরিক্ত বায়ু নিঃসরণ কিন্তু মলদ্বারে অক্ষমতা নেই। মল সবুজ বর্ণ হয় অথবা হলুদ বর্ণ মল কিছুটা বের হয়ে পরে সবুজ হয়ে যায়। মানসিক উত্তেজনাবশতঃ উদরাময়। শিশুরা স্তন্যদুধ ছাড়বার পরে বা অতিরিক্ত মিষ্টি খেয়ে উদরাময়।

নেট্রাম সালফ – মলত্যাগ কালে প্রচুর বায়ু কিন্তু উত্তাপ নেই। বর্ষাকালে নখের চার ধারে পেকে যায়। সকালে বাড়ে।

পডোফাইলাম – বায়ু নিঃসরণ অপেক্ষা প্রচুর পরিমাণ মল নির্গমণ হতে থাকে। প্রায়ই মলদ্বার বের হয়। মল অত্যন্ত দুর্গন্ধ। সকালে ও রাতে উদরাময়। গরম কালের উদরাময়।

কার্বো – কলেরার ও উদরাময়ের পেট ফাঁপা, ঢাকের মতো। বেদনা থাকে না। সর্ব শরীর ঠান্ডা , পাখার বাতাস চাওয়া বৈশিষ্ট্য। উদগারে উপশম।

বিসমাথ – কলেরা বা উদরাময়ে বার বার জল পান করে। জলীয় বস্তু খাওয়ামাত্র বমি করলে এতে উপকার পাওয়া যায় (পরীক্ষিত)।

ভিরেক্টাম অ্যালবাম – কপালে ঘাম, অদম্য পিপাসা, অসহ্য পেট বেদনা, চাল ধোয়া পানির মতো ভেদবমি, হাত খিঁচুনি (রিসিনাস এর ক্ষেত্রে পেট বেদনাহীন), ভীষণ শূল বেদনা।

ক্যামোমিলা – দাঁত উঠবার সময় উদরাময়, মলের রং সবুজ ও দুর্গন্ধযুক্ত, ছেলেমেয়েরা সারাদিন ঘ্যান ঘ্যান করে কাঁদে এবং কোলে উঠলেই চুপ করে। মনে করতে হবে – দাঁত উঠবার সময় উদরাময় হিসাবে ক্রিয়োজোটের নাম কারও মনে থাকে না অথচ সমস্ত লক্ষণই ক্রিয়োজোটের মতো। তবে ক্রিয়োজোট পরিত্যাগ করা ঠিক হবে না।

গ্যাম্বোজিয়া – সবুজ শ্লেষ্মা মিশ্রিত বা হলুদবর্ণ মল, মলের সঙ্গে বায়ু নিঃসরণ, পেটের মধ্যে গড়গড় শব্দ, সামান্য একটু বেগ দিলে একেবারে সমস্ত মল জোরে নির্গত হয়, প্রস্রাবের গন্ধ ঠিক পেঁয়াজের মতো।

ক্রোটিন-টিগ – হাঁসের মলত্যাগের মতো জোরে মল নির্গমণ – অনেকটা হলুদ বর্ণ মল নির্গত হয় এবং বহুদূর পর্যন্ত ছুটে যায়, আহার বা জলপান করা মাত্র মলত্যাগ। খোঁস পাচড়ার সঙ্গে বা পর্যায়ক্রমে উদরাময়।

রিউম – মল অত্যন্ত টক গন্ধযুক্ত এবং কিছুক্ষণ পর সবুজ হয়। পেটের মধ্যে খুব ব্যথা হয়। শিশু সারা রাত কাঁদতে থাকে। মাথায় খুব ঘাম, সারা শরীর টক গন্ধযুক্ত। মুখের মাংসপেশী থেকে থেকে নাঁচতে থাকে।

ম্যাগনেসিয়া কার্ব – মল অত্যন্ত টক গন্ধযুক্ত এবং সবুজ বর্ণের ফেণাযুক্ত মলের উপর সাদা সাদা দানা ভাসতে থাকে। দুধ সহ্য হয় না। পেটের মধ্যে খুব ব্যথা হয়। সকালে বাড়ে।

সিনা – সাদা বা সবুজ বর্ণের মল, ছেলেমেয়েরা দিবারাতে খাবার জন্য ঘ্যান ঘ্যান করতে থাকে। রাক্ষুসে ক্ষুধা। পেটের উপর চাপ দিয়ে শুয়ে থাকে। নাক রগড়াতে থাকে।

বেনজোয়িক অ্যাসিড – শিশুদের গরমকালে উদরাময়-মল সাবানের ফেনার মতো, দুর্গন্ধ সাদামল; প্রস্রাব দুর্গন্ধ, শিশুর গায়েও প্রস্রাবের গন্ধ।

মার্কসল – মল-মূত্র, ঘাম, শ্বাস-প্রশ্বাস সবই দুর্গন্ধ। খুব পিপাসা। মুখ থেকে লালা পড়ে। নিষ্ফল মল এবং সবুজ বর্ণ, ফেনাযুক্ত আম অথবা রক্তমিশ্রিত, মল ত্যাগের আগে বমির ভাব এবং অবিরত কুন্থনে মলদ্বার ঝুলে পড়ে। উভয় কাতর।

নাক্স-ভম – উগ্রদ্রব্য ভোজনের পর বা রাত জাগার পর রোগ আক্রমণ। কোমরে ব্যথা, কোষ্ঠবদ্ধতা, পায়খানার ইচ্ছা হয় কিন্তু পায়খানা গেলে আর বাহ্য হয় না।

ইপিকাক – সবুজ বর্ণ আম বা রক্ত মিশ্রিত আম, মলত্যাগের পরেও কুন্থন থামে না, ক্রমাগত বমি করার ইচ্ছে, পিপাসাহীন, জিহ্বা পরিষ্কার।

মার্ককর – ভীষণভাবে আক্রমণ করে মলত্যাগের পরে অবিরত কোঁথ; মল আম মিশ্রিত। প্রস্রাব কমে যায় বা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। শরৎকালের আমাশয়।

কেবল দিনে বৃদ্ধি রোগের ক্ষেত্রে – নেট্রাম এবং পেট্রোলিয়াম।

শিশু ও বয়ষ্ক রোগীর ঘুম থেকে উঠলে নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, স্রাব হয় এবং চক্ষুর ভেতর ভাঙ্গা কাচ পড়েছে মনে হয়। এই ওষুধটি সোরা দোষ নাশক।

সালফার ও এলো রোগীদের মলম ব্যবহারে বেড়ে যায়, এটি একটি বিশেষ বিশেষত্ব। এলোতে মল, মুত্র এবং অর্শের রক্তস্রাব খুব গরম মনে হয়। ডা. সেন এলোর একটি অবরুদ্ধ মলান্ত্রের রোগীকে আরোগ্য করেছেন। অন্যদিকে, সালফার, কেলিবাই বা সিপিয়া এলোর কাজ শেষ করে।

জ্বর আছে কিন্তু তাপ নেই, সোরাদোষে দুষ্ট রোগীদের মধ্যে যেমন দেখা যায়, এই জ্বর তেমনই। এটা হলো সোরাদোষ নাশক ওষুধ।

 

সম্পুরকঃ

সালফার, নাক্স, পডো, সিপিয়া, কেলিবাই, এসিড সালফ, এসিড মিউর, গ্যাম্বোজিয়া।

 

ক্রিয়ানাশকঃ

নাক্স, ক্যাম্ফর, লাইকো।

 

কিসে উপসমঃ

ঠান্ডাতে, চাপে, ঠান্ডা জল ও ঠান্ডা বায়ুতে, মল ত্যাগের পর বেশ আরাম, শীতকালে, অর্শের ঠান্ডা পানিতে, সামনের দিকে হেট হলে, নড়াচড়ায়।

 

কিসে ও কখন বৃদ্ধিঃ

সকাল ১০ টায় পানাহার, ঋতুকালে, মলম লাগালে, অম্লে, গরম দিনে, নড়াচড়ায়, তাপে, প্রস্রাব করার সময়, শীতকালে খোঁস পাচড়া, মেঘাচ্ছন্ন দিনে, ভোর বেলায়, গুহ্য দ্বারে মলম লাগালে জ্বালা।

 

ইচ্ছাঃ

আপেল, রসালো ফলমুলের, ঠান্ডা জলে গোসলের, আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা, লবণাক্ত খাদ্যের, বিছানায় খোলা গায়ে শুয়ে থাকতে।

 

অনিচ্ছাঃ

মাংসের প্রতি, নড়াচড়া করতে।

 

খাদ্য নিষেধঃ

গরম পানি, ফল।

 

মায়াজমঃ

সোরা।

 

বিরোধীঃ

এলিয়াম স্যাট, ক্যাম্ফর।

 

 কাতরতা ও ক্রিয়াকালঃ

উভয় কাতর / ২ দিন।

 

শততমিক শক্তিঃ

৩০/২০০/১০০০।

 

৫০ সহস্রতমিক শক্তিঃ

এম ২, এম ৩, এম ৪, এম ৫, পুরাতন রোগের ক্ষেত্রে শক্তি উর্দ্ধে।

 

[বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যগুলো কেবল হোমিওপ্যাথি সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণের জন্য। অনুগ্রহ করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে আপনার শারিরীক বা মানসিক ক্ষতি হতে পারে। প্রয়োজনে, আমাদের সহযোগীতা নিন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।]

অ্যাডমিনঃ

আপনাদের সাথে রয়েছি আমি মোঃ আজগর আলী। ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। মানুষের সেবা করারও খুব ইচ্ছে। আর তাই গড়ে তুলেছি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক ওয়েবসাইট সানরাইজ৭১। আশা করছি, আপনারা নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন এবং ই-স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক পোস্টসমুহ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (দুপুর ২:৪৪)
  • ২২শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
  • ৬ই রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
  • ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)